পেপ গার্দিওয়ালার সাথে প্রিমিয়ার লীগের এডাপ্টশন

পেপ গার্দিওয়ালার সাথে প্রিমিয়ার লীগের এডাপ্টশন

টিকি-টাকার জন্য পেপ গার্দিওয়ালা বিখ্যাত। বার্সেলোনার বি টীম থেকে নিজের কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন আর হঠাৎ করেই বার্সেলোনার গডফাদার ইয়োহান ক্রুইফের স্বিদ্ধান্তে তাঁকে মেইন টীমের কোচ দেয়া হয়। ক্রুইফের মতে,

"Guardiola sees the game as God intended, I'd say he was my best student."

তারপর বার্সেলোনায় তিনি কি করেছেন তা সবারই জানা। তখন অনেকেই বলেছিলো, পেপ প্রাইম টাইমের জাভি-ইনিয়েস্তা, মেসিকে পেয়েছে। ব্যাপারটা তেমন না। এই তিনজন মাসিয়া থেকেই উঠে এসেছে। লা মাসিয়ার রুল একটাই, "পজেশান।" যতক্ষণ বল তোমার পায়ে, ততক্ষণ খেলার নিয়ণ্ত্রণ তোমার কাছে। আর পেপ গার্দিওয়ালার নিয়মও ছিলো একই। মেসি-জাভি-ইনিয়েস্তার সাথে তাঁর প্লেয়িং স্টাইল মিললো, তাঁরা বিশ্ব শাসন করলো।

সবাই বলে মেসির কারণে ইব্রা বার্সা ছাড়ে। কিন্তু, ইব্রা বার্সা ছাড়ে টিকিটাকার সাথে এডাপ্ট করতে না পেরে পেপ এর মন জয় করতে না পারায়। পেপ এর আরেকটি সহজ হিসেব হলো, তুমি আমার স্টাইলের সাথে না গেলে তোমাকে আমি আর দলে চাইছিনা। বার্সা বি তে থাকাকালীন গার্দিওয়ালা পেয়েছিলেন সার্জিও বুস্কেটস কে। তিনি সবচেয়ে বড় জুয়াটাও খেললেন সেখানে। আর বুশিও তাঁকে হতাশ করেননি। ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইয়া ইয়া তোরে কে রিপ্লেস করেন একজন তরুণ সার্জিও বুস্কেটস। মোট কথা, পেপ এর ফিলোসফি হলো, তুমি আমার সিস্টেমের সাথে না গেলে তোমাকে আমি আর গুনছিনা।


পেপ এখন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ। সে ইপিএলে আসার আগে সবাই বললো, "এখানে টিকিটাকা চলবেনা ব্রো, দেখি এখানে কি করো।" ইপিএলে এসে প্রথম সিজন ভালো যায়নি। মানুষ আরো ভালো রসদ পেলো তাঁকে ওভাররেটেড প্রমাণ করার। এই সিজনে কিছু নতুন প্লেয়ার সাইন করালো, পুরোনোদেরকে তাঁদের ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে আনলো। সবাই বললো 'আরব মানি' দিয়ে এতো সাফল্য। ইপিএলের  অন্যান্য টীমও টাকা খরচ করেছে, তাঁরা এমন সাফল্য পাচ্ছেনা ক্যানো তাহলে? এবার আসা যাক প্লেয়ারদের সম্পর্কে।


এডারসন: এই সিজনে সিটির একটা সাইনিং। পেপ যখন সিটিতে আসে, তখন সে বার্সেলোনা থেকে ব্রাভো কে উড়িয়ে আনে ইন ফর্ম জো হার্ট কে রিপ্লেস করতে। কারণ তাঁর মনে হলো তাঁর স্টাইলের সাথে সাথে হার্ট যাবেনা। ব্রাভো ফ্লপ গেলো, পেপ দুয়ো খেলো। সে এবার এডারসনকে আনলো। এই সিজনে ইপিএলের অন্যতম সেরা গোলকিপার। গত ম্যাচেও টটেনহামের এরিকসেন  আর দেলে আলির চেয়েও তাঁর পাস  (২৬) বেশি ছিলো। তাঁর সাইনিং সফল।


স্টোন্স এবং ওয়াকার: দুটি সফল* সাইনিং। পেপ এর সিস্টেমের সাথে দ্রুতই  এডজাস্ট করে নেয়। 


ওটামেন্ডি: এই সিজন শুরুর আগে একজন এভারেজ ডিফেন্ডার। এখন ফফবদ, টুইটার ঘাঁটলে দেখি সবাই বলে সিজনের ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট ডিফেন্ডার। কীভাবে? পেপ গার্দিওয়ালা।

 

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ফ্লপ দানিলোকে কিনে  আনে। কারণ সে জানে তাঁর মধ্যে ভার্সেটাইলিটি আছে। পেপ এর দলেও এমন একজন 'সার্জি রবার্তো' এর দরকার ছিলো যে দলের প্রয়োজনে যেকোনো জায়গায় সব পজিশনে খেলতে পারবে। সিজনে এখন পর্যণ্ত রাইট ব্যাক দানিলো সিবি, আরবি, এলবি, মিড সব জায়গায় খেলসে। এবং যথেষ্ঠ ভালো করসে। ডেল্ফ এর ক্ষেত্রেও সেইম। তবে মাঙ্গালা মেবি নেক্সট সিজনে আর বেঞ্চেও থাকবেনা।


এবার আসি মিডের দিকে। ডি ব্রুইনে, ফার্নান্দিনহো আর ডেভিড সিলভাকে তাঁদের সম্পূর্ণ  ক্যারিয়ারে কি কখনো এতো রেট করা হইসে? তাঁদের এরকম বিস্ট ফর্মের পেছনে মানুষটা পেপ গার্দিওয়ালা। ডেভিড সিলভা যদি ৪-৫ বছর আগে পেপ কে পেতো, তাহলে ওকে প্রতিবছর ফিফার অনুষ্ঠানে দেখা যেতো।  এক্ষেত্রে ডি ব্রুইনে আর ফার্না ভাগ্যবান। তাঁরা তাঁদের ক্যারিয়ারের বেস্ট টাইমে পেপ কে পাইসে। 


গার্দিওয়ালা আসার আগে ওরা মিডফিল্ডার ছিলো, এখন ওরা একেকজন বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার।


সার্জিও এ্যাগুয়েরোঃ একজন প্লেয়ার যে গত ৪-৫ সিজন ধরে বছরে ৪০+ গোল পেয়ে আসছে। কিন্তু, কখনো এ্যাগুয়েরোকে খেলার সাথে এতো রিলেটেড থাকতে দেখেছেন। আমরা আগে কি দেখতামম? সে ডি-বক্সে বসে আছে, তাঁকে পাস দিলো। সে লিথাল ফিনিশিং এ গোল দিলো। আর এখন? সে গোল আর এ্যাসিস্টের পাশাপাশি একজন স্ট্রাইকার হয়েও ম্যাচ প্রতি ৪০+ পাস দেয়, প্রেসিং করে, প্রয়োজনে নিচে নেমে ডিফেন্ড ও করে। এগুয়েরোর এতো ভালো করার পেছনের মানুষটা কে?


রাহিম স্টার্লিংঃ পুরো ক্যারিয়ারে ছিলেন একজন ওভাররেটেড ইংলিশ প্লেয়ার। আর এই সিজনে সিটির সর্বোচ্চ গোলদাতা। এই সিজনে সে এখন পর্যণ্ত যত গোল করেছে, গত তিন সিজন পুরো সিজন খেলে এর থেকে কম গোল করতো। ওর এমন পরিবর্তন হলো কীভাবে?


লেঁরয় সানেঃ এভারেজ ইয়ংস্টার। এই সিজনে "ভবিষ্যত ব্যালন জয়ী।" ড্রিবল, পেইস, কাট-ইন সব পার্ফেক্ট। বাকি ইয়ংস্টারদের সাথে সানে'র ডিফারেন্স হলো পেপ গার্দিওয়ালা। সে মানুষটাকে পাইসে, বাকিরা পায়নাই!


জেসুস কে তো এই সিজনে সবাই নতুন করে চিনছে। নিয়মিত গোল এ্যাসিস্ট পাচ্ছে আর সাথে কোচ এর আস্থা ও অর্জন করে নিলো।


এছাড়া বার্নাডো সিলভা, গুন্ডোগন রা তো আছেই। অনুর্দ্ধ-১৭ বিশ্বকাপ খেলে আসা ফিল ফোডেন কে উচলের স্টার্টিং ইলেভেনে খেলাতে কলিজা লাগে! বার্সাতে থাকাকালীন তো উচলের ম্যাচে একবার ১১ জন লা মাসিয়ান নামায় দিসিলো।


দিনশেষে, সবাই দেখলো পেপ টাকা খরচ করে সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু, কেউ বলবেনা সে টাকাগুলো কোথায়-কেন খরচ করেছে। সে কতগুলা 'ভালো মিডফিল্ডার' কে বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার বানিয়ে ফেলেছে। সে ওভাররেটেড ইংলিশ কে  বিশ্বসেরা লীগের বেস্ট প্লেয়ার বানিয়ে ফেলেছে। চোখ থাকিতে অন্ধ। আপনি পেপ হ্যাটার হয়েও ফুটবল সম্পর্কে ধারণা থাকলে তাঁর জিনিয়াসনেসের প্রশংসা না করে পারবেননা। ইপিএলের মতো লীগ কে ওয়ান হর্স লীগ বানিয়ে ফেললো 'ইপিএলে আসলে কি করে দেখবো' খোঁচা খাওয়া লোকটা। সে কিভাবে ওভাররেটেড হয়?


দিনশেষে বলা যায়, পেপ গার্দিওয়ালার সাথে প্রিমিয়ার লীগের মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে বটে!

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন