বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসঃ (পর্ব-৭) ওয়ারী ক্লাব এবং উনিশ শতকে ঢাকার ফুটবল (শেষ পর্ব)

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসঃ (পর্ব-৭) ওয়ারী ক্লাব এবং উনিশ শতকে ঢাকার ফুটবল (শেষ পর্ব)

একটি ক্লাব যখন সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করে তার পিছনে ক্লাবটির পৃষ্ঠপোষক,খেলোয়ার,সমর্থকদের অবদান নেহায়েত কম নয়। ক্লাবটির পৃষ্ঠপোষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা, খেলোয়ারদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন – সব মিলিয়েই আসে সাফল্য। গত পর্বে ওয়ারী ক্লাব এর প্রতিষ্ঠা, অগ্রযাত্রা, সাফল্য নিয়ে বিশদ আলোচনা ছিল। এ পর্বে আমরা ওয়ারী ক্লাব এর হয়ে খেলেছেন,নিজের অসাধারণ ফুটবলশৈলী দিয়ে দেশ ও দেশের বাইরের অগণিত দর্শক এর মন জয় করেছেন, ক্লাব এবং দেশের ফুটবলকে বিশ্বের সামনে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন এমন কয়েকজন ফুটবলারের সম্বন্ধে জানব।


প্রথমেই যার কথা আলোচনায় আসবে তিনি হলেন যতীন্দ্রনাথ রায়। মতান্তরে জীতেন্দ্রনাথ রায়। তবে ফুটবল মাঠে কানু রায় নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ঢাকার অধিবাসী। প্রেসিডেন্সী কলেজ এর ছাত্র ছিলেন।তিনি ছিলেন ঢাকার ওয়ারী ক্লাবের নিয়মিত খেলোয়াড়। কানু রায় ছিলেন সেকালের সর্বজনস্বীকৃত সেরা রাইট আউট। যদিও তিনি সমান দক্ষতায় লেফটআউট পজিশনেও খেলতে পারতেন। পরে তিনি মোহনবাগানে যোগ দেন। ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে এগোতে পারতেন। রংধনু শটে পারদর্শী ছিলেন। খেলা ছাড়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরী করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে রায়বাহাদুর খেতাব পেয়েছিলেন।১৯৬২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


রাজেন সেনগুপ্ত। রাজেন সেন নামে অধিক পরিচিত। ঢাকার বিক্রমপুরের অধিবাসী। কলকাতা স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্র ছিলেন। সেন্টার হাফ পজিশনে খেলতেন। বেঁটে-খাটো হলেও দূর্দান্ত সাহস এবং অফুরন্ত দমের কারণে সারা মাঠেই তাঁর বিচরণ ছিল। কলেজজীবনে স্বদেশি আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। পরে আকাশবাণী, কলকাতায় যুক্ত হন। বলা হয়ে থাকে, তিনি বাংলা ফুটবল ধারাভাষ্যকে দেশব্যাপী জনপ্রিয় করা এবং একটি শিল্প হিসেবে ধারাভাষ্যকে জনপ্রিয় করার মূল সুতিকাগার তিনি । ১৯৪৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ওয়ারী ক্লাব এর উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়দের মধ্যে দীনেশ গুহ, ভোলা, ভানু দত্ত রায়, প্রশান্ত, পোদ্দার- প্রমুখ ফুটবলার ইস্ট বেঙ্গলে যোগ দেন।


গত কয়েক পর্ব ধরে উপমহাদেশীয় দলগুলোর এবং ব্যক্তিগত সাফল্যগাথা শুনে যাচ্ছি। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, আচ্ছা আমরা এখন পর্যন্ত আমাদের কিংবদন্তি দের সম্বন্ধে জানতে পারলাম না কেন?

প্রথমত দায় টা আসে আমাদের উপর। আমাদের ফুটবল এখন যেমনই টালমাটাল অবস্থায় থাকুক না কেন, এর সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্বন্ধে কেও জানবার চেস্টাও করি না। নিজের দেশের কথা উঠলেই ধুর!! এদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না টাইপ কথা বলেই শেষ করে দেই। কিন্তু দেশ-বিদেশ এর পুচকে ক্লাব গুলোকে নিয়েও আমাদের মহা আগ্রহ। অন্য দেশের কোন লিজেন্ড এর জন্মদিনে আমরা ফিচার, অনুষ্ঠান, সেলিব্রেশন করে দিন পার করে দেই। অথচ আমাদের দেশের গর্বের কবরে দোয়া করার মত লোক খুজে পাওয়া যায় না। দিন শেষে ওই একটুই আফসোস বাড়িতে বসে, "আহা!! আমাদের যদি কোন লিজেন্ড থাকত"।
অন্য দেশের তো ফুটবলের প্রতিটা ক্লাব এর নাম মুখস্ত করে ফেলসি। নিজের দেশের কয়টা ক্লাব আছে তাও জানি না।

অপর দেশের ইতিহাস পরে নিজেদের পাড়ার বড় ভাইটির সাথে তর্ক করছি, পচাচ্ছি। দরকার পড়লে অপমান করছি। তবুও অই দেশ নিয়ে আমার জিততে হবেই। কই সেই পাড়ার বড় ভাইটিকে নিয়ে একসাথে তো কোনদিন নিজের দেশের গর্ব নিয়ে, নিজেদের ফুটবল কে কিভাবে নিজ এলাকায় হলেও কিভাবে বাচিয়ে রাখা যায়, সে গল্প তো আমরা করি না। আচ্ছা চিন্তা না হয় করি না ভাল কথা, এই যে পাড়ার লোক টাকে অপমান করলেন আপনার বিপদে কে এগিয়ে আসবে সবার আগে? আপনার ওই বিদেশি ক্লাব না সেই ভাইটি যাকে আপনি মনের তৃপ্তি নিয়ে অপমান করেছিলেন?? ভাববার বিষয়.........

বলতে পারেন এ আর এমন কি?কথা না বললে কিইবা হবে?? মুখ টা বাকিয়ে চলে গেলেন।
হবে, যখন কখনো অন্য দেশের মানুষ এর সামনে নিজের ফুটবল নিয়ে,নিজের দেশের ইতিহাস নিয়ে কিছু বলতে বলা হয়...... যখন মাথা নিচু করে চুপ করে চলে আসবেন তখন হবে।
কারণ তারা তাদের নিজেদের ফুটবল, নিজেদের সংস্কৃতি কে লালন করে, বুকে ধারন করে নিজেদের কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। নিজেদের ইতিহাস কে অন্তত তারা সংগ্রহ করে রাখতে পেরেছে।
সেদিন লজ্জায় মাথা কুটে মরা ছাড়া আপনার আমার আর কোন উপায় নেই বাা থাকবেও না।

এখানেই শেষ নয়। যেদিন আপনারই ছেলে বা আপনারই মেয়ে বলবে বাবা, আমরাও কি ওদের মত ফুটবল খেলতাম? আমাদেরও কি ক্লাব ছিল? এত দর্শক হত?
একটু দেখাও না বাবা।
সেদিন বুকের ভিতর চাপা কস্ট আর হাহাকার লুকানো ছাড়া কিছুই করার থাকবেনা আপনার।
কারন আপনার ইতিহাসতো উইকিপিডিয়া তেও নেই। যখন সময় ছিল সংরক্ষণ করেন নি। তখন অন্য দেশের বড়াই করে নিজের দেশ কে ছোট করেছেন। 
অপেক্ষা শুধু সেই সময়ের।


আমরা আইলের ধার ঘেষে হেটে চলা ছোট পাড়ের শাড়ি উচু করে কোমর দুলিয়ে চলা যুবতির নগ্ন অধরা যৌবনকেই দেখতে পাই, নিজ গৃহে উনুন জালিয়ে চুলোর কালি গায়ে মাখিয়ে অন্নের ব্যবস্থা করা আমাদের পদ্মাবতি কে আমরা দেখতে পাই না, দেখলেও তাদের চিরসবুজ যৌবন আমাদের চোখে পড়ে না।

আগের পর্বের লিংক এখানে


নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন