ফুটবল কি শুধুই টিম গেইম?

ফুটবল কি শুধুই টিম গেইম?

ফুটবল কি দলগত খেলা নাকি ওয়ান ম্যান শো? উত্তর টা সবারই জানা, সবাই ই বলবেন ফুটবল একটা টিম গেইম। এর পিছনে যথেষ্ট পরিমাণ যুক্তিও আছে। কিন্তু না আমি আজ বলবো ভিন্ন কিছু। 

ফুটবল দলীয় খেলা হলেও দলের দুই একজন সদস্য থাকে যাদের ছাড়া দল দলীয় ভাবে খেলতে পারে না, এর প্রমাণ বহুবার ফুটবল বিশ্ব পেয়েছে। এমনই কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করবো আজকের লেখায়। 

জুলাই ২০১৪:

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম সেমিফাইনালে ব্রাজিল তাদের ফুটবল ইতিহাসে সব থেকে বড় লজ্জার মুখোমুখী হয়, ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে তারা জার্মানির কাছে হেরে যায়। এত বড় হারের কারণ হয়তো অনেকেই বলবেন যে জোয়াকিম লো’র শক্তিশালী জার্মানির সামনে টিকতে পারেনি স্কলারির ব্রাজিল। আসোলেই কি তাই নাকি আরো কিছু কারণ ছিল? বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে টিমটাকে এতো ফেভারিট ভাবা হত তারা কি করে এতো ব্যবধানে হারে? শুরুটা করতে হবে একটু পিছন থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে কলাম্বিয়ান ডিফেন্ডার জুনিগা নেইমারকে বাজে ভাবে ফাউল করে, এতে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পরে ব্রাজিলের সেরা তারকা, অপর দিকে একই ম্যাচে থিয়াগো সিলবা হলুদ কার্ড দেখে, টানা দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পরে রক্ষণভাগের সেরা এই তারকা। সেমিফাইনালে এই দুই তারকা কে ছাড়াই মাঠে নামে স্বাগতিক ব্রাজিল। ১১ মিনিতে থমাস মুলার গোল দিলে ব্রাজিল দলের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকে, এরপর একেরপর এক দৃষ্টি কটু গোল লজ্জার পরিধি বাড়িয়েছে। খেলার শুরু থেকেই তাদের আত্নবিশ্বাসের কমতি ছিল যা তাদের খাঁদের কিনারার দিকে নিয়ে গেছে।



২৮শে মার্চ ২০১৭:

ল্যাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের এওয়ে ম্যাচ ছিল আর্জেন্টিনার আগের ম্যাচে রেফারির সাথে অসদাচরণ করার দায়ে ৪ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় দলের সেরা তারকা লিওনেল মেসিকে। বলিভিয়ার মাঠে জয় পাওয়া পৃথিবীর কঠিনসাধ্য জয় গুলোর মত। কেননা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৩০০০ ফিট উচ্চতায় খেলা ভীষণ কষ্টসাধ্য। মেসিহীন আর্জেন্টিনা ম্যাচের শুরুতেই হেরে যায়। আত্নবিশ্বাসের অভাব তাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল, তার ফল স্বরুপ আর্জেন্টিনা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২-০ তে হেরে যায়, বলাই যায় মেসি থাকলে হয়তো এতো শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হত না।


১৪ই নভেম্বর ২০১৭: 

রাশিয়ার ক্রাস্নোদারে এক প্রীতি ম্যাচে অংশ নেয় আর্জেন্টিনা- নাইজেরিয়া। এই ম্যাচে মেসিকে রেস্ট দেয়া হয়। ম্যাচের শুরু থেকে আর্জেন্টিনা তাদের নামের উপর ভালই সুবিচার করে। ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ দলের অন্যতম সেরা তারকা আগুয়েরোকে তুলে নেন। ৫৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা ২য় গোলটি খেয়ে বসে আর এতেই খেই হারিয়ে ফেলে আলবিসেলিস্তারা, এরপর গুনে গুনে আরোও দুইটি গোল খায়। ৪ গোল খাওয়ার কারণ হিসেবে হয়তো কোন যুক্তি দেখানো যাবে না, তবুও দলের সেরা প্লেয়ারের অনুপস্থিতি কিংবা মেইন স্ট্রাইকারের সাব হওয়া এসব অনেকাংশে দায়ী।

ফুটবল ইতিহাসে একজন এর হাত ধরে যেমন বিশ্বকাপ জয়ের গল্প আছে তেমনি একজনের অনুপস্থিতির জন্য দলের খাঁদের কিনারায় যাওয়ার গল্পও নেহাত কম না। আরেকদিন না হয় সেইসব নিয়ে কথা হবে।


নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন