বাংলাদেশের আকাশী নীলরা

বাংলাদেশের আকাশী নীলরা

বাংলার আকাশী নীল বলতেই আমরা সবাই আবাহনী লিমিটেড কে বুঝি। এই আবাহনীর মাধ্যমেই যে আমাদের দেশের ক্রিড়াঙ্গনে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছিলো। বঙ্গবন্ধু পুত্র শেখ কামাল এর কল্যানে ১৯৭২ সালে সৃষ্টি হয়েছিলো আবাহনী। তখনকার ইকবাল স্পোটিং এর নাম পাল্টে রাখা হয় আবাহনী। শেখ কামাল বাংলাদেশের ক্রিড়াঙ্গনে অনেক বড় অবদান রেখে গেছেন এই আবাহনীর মাধ্যমে।
 
১৯৭২ সাল থেকে ২০১৭ আজও বাংলাদেশের ফুটবল মাঠ নিজেদের করে রেখেছে এই আবাহনী। দেশের সব বড় তারকা ফুটবলারই খেলেছেন আবাহনীতে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন ১৯৭২-১৯৮৪ সাল পর্যন্ত আবাহনীতে খেলেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের ক্রিড়াঙ্গন প্রায় শুন্য। তখন শেখ কামাল এর চেষ্টায় একএিত হয় আবাহনী। তার চিন্তায় ছিলো বাংলার ক্রিড়াঙ্গন, যা তিনি আবাহনীকে দিয়ে বাংলাদেশের নতুন কিছু দিতে চেয়েছিলেন এই অঙ্গনে।
 
 
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ঢাকা লীগ ফেডারেশন কাপ সব নিজেদের ঘরে অনেক বার তুলেছে আবাহনী। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ নিজেদের ঘরে তুলেছে ৫বার। ১বার ছিলো রানার-আপ। টানা তিনবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ জিতেছিলো ঢাকা আবাহনী। ২০০৭, ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০ এছাড়াও ২০১২ এবং গত বছর মানে ২০১৬ তেও চ্যাম্পিয়ন ঢাকার ক্লাবটি। ঢাকা আবাহনী ঢাকা লীগ জিতেছে ১১ বার। যেখানে রানার-আপ হয়েছে ৭বার। এছাড়াও ফেডারেশন কাপ জিতেছে ১০ বার যেখানে রানার-আপ ৭বার। এশিয়া কাপ ১৯৮৫-তে রানার-আপ হয়েছিলো বাংলার ক্লাবটি। আবাহনীর সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ বলা হয় মোহামেডানকে। একসময় দুইদলের ম্যাচ এর সময় দেশ দুইভাগ হয়ে যেতো। উত্তেজনা, খেলা সব ছিলো এই আবাহনী মোহামেডান এর ম্যাচে।
 
বাংলার ফুটবল আজ ঘুমে প্রায়। শেখ কামাল যে স্বপ্ন দেখেছিলো তা হয়তো হতে পারতো কিন্তু হয়নি। বাংলাদেশের ফুটবল আজ পিছিয়ে গেছে আমাদের জন্যই। আজ কয় জন বা জানে ঢাকা আবাহনী, ঢাকা মোহামেডান এ কত বড় তারকারা খেলে গিয়েছিলো। ১৯৮৬ সালে আবাহনীতে খেলেছিলো দুই জন প্লেয়ার যারা বিশ্বকাপ এ অংশগ্রহন করেছিলো। এশিয়া অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ইরানি ফুটবলার সামির শাকিল আবাহনীতে খেলেছেন। এছাড়াও ইরান এর অধিনায়কত্ব করা করিম মোহাম্মদ আলভীও ১৯৮৬তে আবাহনীর ছিলেন। শ্রীংলকার দুই কিংবদন্তী ফুটবলার প্রেমলাল এবং নিজাম পাকের আলি ও আবাহনীর হয়ে ঢাকার মাঠ কাপিয়েছিলেন।১৯৮৬ সালের ঢাকা লীগকে বাংলাদেশের সেরা মৌসুম বলা হয়।
 
ইতিহাস হয়তো আরো বড় আরো অনেক কথা লুকিয়ে আছে ধানমন্ডির মাঠে। মাঠের সব কিছুই আবাহনীর অর্জনের সাক্ষী। আজ ভালো একটা কাঠামো আছে আবাহনীর। কিন্তু কিছুটা পেশাদার হলেই হয়তো আরো সাফল্য আসবে। দ্রাগো মমিচ এর নেত্বতৃ আবাহনী এবার লীগ খেলছে এবং এখন পর্যন্ত লীগে ৩য় স্থান এ রয়েছে।
আশা করি আাবহনীর সামনের পথচলা আরো সুন্দর হবে এবং বাংলাদেশ ফুটবল এর উন্নয়নে আরো অবদান রাখবে।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন