সমন্বয়হীনতায় বিধ্বস্ত মিলান

সমন্বয়হীনতায় বিধ্বস্ত মিলান

‌ইতালিয়ান সেরি আ এসি মিলানকে নিজেদের মাঠে ৪-১ গোলে বিদ্ধস্ত করেছে রোমের ক্লাব লাতসিও। ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড সিরো ইমোবিলের হ্যাট্ট্রিক আর লুইস আলবার্তোর গোলে খেলার ৪৮ মিনিটের মধ্যেই মিলানের জালে ৪ গোল ঠেলে দেয় লাতসিও। পরবর্তিতে মিডফিল্ডার মন্টোলিভো একটি গোল দিলেও তা স্বান্তনা বলেও গন্য হয়নি মিলানের জন্য; লজ্জাজনকভাবে ম্যাচটি হারে ৪-১ ব্যবধানে।

গত কয়েক মৌসুম ধরেই সময়টা ভালো যাচ্ছেনা ইতালির ঐতিহ্যবাহী দল এসি মিলানের। তবে এই মৌসুমের শুরুতে মালিকানা পরিবর্তনের সাথে সাথেই দলবদলের বাজারে বেশ তড়িঘড়ি দেখা যায় তাদের। স্কোয়াডের উন্নতির লক্ষ্যে ভালো কিছু খেলোয়াড়দের দিকে হাত বাড়ায় এবং সফল্ভাবে তারা দলে ভেড়ায় বনুচ্চি, রিকার্দো রদ্রিগেজ, কন্টি, চালহানগলু, আন্দ্রে সিলভাদের মতোন প্রমানিত এবং প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের। সফল প্রি-সিজনের পর মৌসুমের শুরুতে লীগে দুই ম্যাচের জয় আর ইউরোপা লীগের প্লে-অফ বাধা অতিক্রম করে তারা বার্তাও দিয়েছিলো নতুন প্রত্যাবর্তনের। কিন্তু গতকাল এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় প্রায় মুখ থুবড়ে পড়লো তারা। এর পেছনে কারনগুলো কি তা একটু খতিয়ে দেখা যেতে পারেঃ

এসি মিলান মাঠে নেমেছিলো ৪-৩-৩ ফর্মেশনে যেখানে মিডফিল্ডে শুরু করেন অভিজ্ঞ মন্টোলিভো আর সদ্যই এই মৌসুমে লাতসিও থেকে আসা আর্জেন্টাইন বিলিয়া সাথে তরুন আইভোরিয়ান ফ্রাংক কেসি। রাইটব্যাকে তরুন ক্যালাব্রিয়া আর সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে আরেক তরুন এবং অনভিজ্ঞ কুটরোনের উপরই ভরসা রাখেন মিলান কোচ মন্তেয়া।

লাতসিও তাদের একাদশ নামায় ৩-৫-২ ফর্মেশনে যেখানে দুই ফরোয়ার্ড হিসেবে শুরু করেন সিরো ইমোবিলে আর লুইস আলবার্তো।

মিলানের দুর্বলতা বের করতে ভুল করেননি লাতসিও কোচ ইনঝাগি

মন্তেয়া সাধারনত তার দলকে পজেশন ভিত্তিক ফুটবল খেলান। মাঠে কিছুটা ধীরগতির বিল্ডআপে আক্রমন তৈরি করে থাকে তার দল। কিন্তু এই দর্শনে খেলার জন্য একাদশটি ঠিক সঠিক ছিলোনা, মিডফিল্ড ত্রয়ী বিলিয়া, মন্তোলিভো আর কেসি- তিনজনই অনেকটা রক্ষনাত্মক মানসিকতার এবং টেকনিক্যালি কিছুটা গড়পড়তা হওয়ায় মিডফিল্ড থেকে লাতসিওর ফাইনাল থার্ডে ঠিকমতোন বল দিতে পারেনি মিলানের মিডফিল্ড। মিলানের ৩ ফরোয়ার্ডঃ বোরিনি, কুট্রোনে আর সুসোর মধ্যে বোরিনির গড়পড়তা টেকনিকের কারনে তিনি খুব একটা বিপদ সৃষ্টি করতে পারেননি। সুসো একজন চমৎকার খেলোয়াড় হলেও মিলানের আক্রমন তৈরির সব চাপ তিনি একা নিতে পারেননি। মিলানকে ম্যাচে বেশ কয়েকবারই দেখা গেছে সুসোকে বল দিয়ে তার ব্যক্তিগত নৈপুন্যের উপর ভর করে গোল করার সুযোগ সৃষ্টির। কিন্তু সুসোকে চমৎকার ভাবে মার্ক করেন লেফট সেন্টারব্যাক স্টিফেন রাডু। আর লাতসিওর পুরো ডিফেন্সের অসাধারন পারস্পরিক বোঝাপড়ায় তাদের বক্সে খুব একটা ঢোকার সুযোগ পায়নি মিলান। ম্যাচে বেশিরভাগ সময়ে বল নিজেদের পায়ে রাখলেও গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছে তারা এলোপাথাড়ি ক্রস কিংবা দূর পাল্লার শটে।

মিলানের নতুন খেলোয়াড়দের সমন্বয়হীনতার অভাব লাতসিও কাজে লাগিয়েছে বেশ চমৎকার ভাবে। ম্যাচে বল পজেশন (৪০%) কম থাকলেও মিডফিল্ড মিলানের জন্য রুক্ষ করে তুলেছিলো। তারা অপেক্ষা করেছে মিলানের বল হারানোর জন্য, এরপর সুনিপুন পরিকল্পনায় ইমোবিলে, লুইস আলবার্তো আর মিলিনকোভিচকে দিয়ে কাউন্টার এটাক করেছে।

মিলানের অনভিজ্ঞতা আর সমন্বয়ের অভাবকে কাজে লাগিয়েছে লাতসিও

গতকাল মিলানের রাইটব্যাকে শুরু করেছিলেন ক্যালব্রিয়া। কিন্তু তাকে নিয়ে রীতিমতোন ছেলে খেলা করেছে ইমোবিলে। প্রায় প্রতিবারই তাকে ড্রিবল করে কাটিয়ে গেছেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। মিলানের সেন্টারব্যাক কুট্রোনও গতকাল আটকা পড়েছিলেন অভিজ্ঞতার কাছে। লাতসিওর সেন্টারব্যাক ডি ভ্রাইয়ের দৃঢ়তা আর মিডফিল্ডের অসাধারন সেটাপে কুট্রোন খেলার মধ্যে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান মিডফিল্ড থেকে।

মিলানের রক্ষনভাগে গতকাল শুরু করেছিলেন ৩জন নতুন সাইনিং: বনুচ্চি, মুসাক্কিও, রিকার্দো রদ্রিগুয়েজ। তাদের সহায়তায় উপরের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররাও নতুন: বিলিয়া, ক্যাসি। এই নতুন খেলোয়াড়দের মাঝে বোঝাপড়া এবং সমন্বয়হীনতার খেসারত দিতে হয়েছে মিলানকে। লাতসিওর এটাক-কাউন্টার এটাকগুলোতে প্রায় সময়েই মিলানের ডিফেন্সকে দেখা গেছে হতবিহ্বল।

নতুন সাইনিংদের সার্ভিস এখনো পুরোপুরি পাচ্ছেনা মিলান

গতকাল মিলানের হয়ে সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড় কে ছিলেন- জিজ্ঞেস করা হলে অনেকেই বলবেন ফ্যাবিও বোরিনির কথা। বেঞ্চ থেকে তার জায়গায় চালহানুলু নেমে প্রমান করে দিয়েছেন তিনি হতে পারেন আরো ভালো সংযোজন। মিলান একমাত্র গোল করেছে তার সেট পিস থেকেই। নতুন সাইনিং কালিনিচও নেমে মোটামোটি উজ্জ্বল ছিলেন, গোল না পেলেও। মন্তেয়া দ্রুতই তার নতুন সাইনিংদের দলের সাথে মানিয়ে নেয়ার অপেক্ষায় তা বলাই বাহুল্য।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন