কিংবদন্তী পাভেল নেদভেদ

কিংবদন্তী পাভেল নেদভেদ

ট্যাক্টিক্সের দৃষ্টিকোন থেকে তখন ৪-৪-২ বা ৪-১-২-১-২ এর যুগ। উইং মিডফিল্ডারদের ভূমিকা ছিলো মূলত উইং দিয়ে এটাক বিল্ডাপ করা ক্রস করা এবং পজিশন কাভার দেওয়া। তখনকার সময় এই প্রথাগত উইংগার ডিউটি থেকে বেরিয়ে এটাক বিল্ডাপ ও ক্রস এর সাথে সাথে ড্রিবলিং ও কাট ইনসাইড করে বক্সে ঢুকে স্ট্রাইকারদের পাশাপাশি থ্রেট ক্রিয়েট ও গোল করায় রাইট উইং এ একজন বস ছিলেন লুইস ফিগো আর লেফট উইং এ ছিলেন পাবেলো নেদভেদ।

জন্মের মাত্র পাচ বছর বয়সেই নিজ হোমটাউনের ক্লাব টিজে সাক্লনার ইয়ুথ টিমে ঢুকে রীতিমত বিস্ময় সৃস্টি করেন। সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু স্পার্তাক প্রাগ থেকে। প্রাগ এর হয়ে দুটি লীগ টাইটেল সহ তিনটা মেজর ট্রফি জিতে চেক রিপাবলিকে বেশ সাড়া জাগালেও ইউরোপে সাড়া জাগান ৯৬ ইউরোতে। সেবার তার পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তার অনবদ্য নৈপুন্য বেশ ভালো ভূমিকা রাখে চেক রিপাব্লিকের ফাইনালে উঠার পথে। ৯৬ এর ট্রান্সফার উইন্ডোতে তাকে নেয়ার প্রথম দাওটা মারে ইতালীর ডার্ক হর্স ল্যাজিও। ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে প্রাগ থেকে দলে ভেড়ায় নেদভেদ কে, তখন ল্যাজিও তে রোবার্ত মানচিনি মার্সেল সালার্স, সিমিওনি ইনযাঘি, সেবাস্টিয়ান ভেরন, আলেস্রান্দা নেস্টাদের সাথে পাবেলো নেদভেদ এর অন্তর্ভুক্তি ল্যাযিও কে বেশ ভালো ভাবেই বুস্ট করে। জায়ান্ট দুই মিলান ও জুভেন্টাসদের ভিড়ে ৯৯-০০ সিজনে বেশ হাড্ডা হাড্ডি লড়াই করে মাত্র এক পয়েন্ট ব্যাবধানে জুভেন্টাসকে টপকে লীগ টাইটেল জিতে নেয় ল্যাযিও যার মধ্যমনি ছিলেন এই পাভেলো নেদভেদ।

                           

লীগ টাইটেল এর পাশাপাশি দুইটা কোপা ইতালীয়া দুইটা সুপার কোপা ইতালীয়া, দুইটা উয়েফা সুপার কাপ জয়ে পাভেল নেদভেদ বেশ কার্যকরি ভূমিকা রাখেন। ৯৯ এর উয়েফা সুপার কাপ ফাইনালে ম্যান উই কে পরাজিত করা ম্যাচটিতে এলেক্স ফার্গুসনের চোখে পড়ে যান; যদিও ফার্গুসন তার প্রতি আগ্রহ দেখায় আরো দুই সিজন পরে। ২০০১ সালে পাবেলো নেদভেদ এর সাথে ম্যান ইউনাইটেড আর চেলসি লিংকাপ হলেও ৪৪ মিলিওন পাউন্ড দিয়ে দাওটা মেরে দেয় তুরিনের ওল্ড লেডিরা।

২০০১ থেকে জুভেন্তাসে শুরু হয় পাভেলো নেদভেদ এর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফলতম অধ্যায়, চারটি লীগ টাইটেলসহ সাতটি মেজর ট্রফি জয় করেন ২০০৩ সালে। জুভেন্টাসকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে তুলতে বেশ অগ্রনী ভুমিকা রেখেছিলেন বিশেষ করে সেমি ফাইনালে সেকেন্ড লেগে মাদ্রিদ কে হারাতে অনবদ্য ছিলেন। কিন্তু ঐ ম্যাচে সেকেন্ড ইয়োলো বুকড হয়ে ফাইনাল মিস করে ফেলেন যার প্রভাব জুভেন্টাস ফাইনালে মালদিনি নেস্তা সমৃদ্ধ মিলানের সামনে বেশ ভালো ভাবেই টের পায়। সেবার নেদভেদ ফাইনাল খেলতে না পারাটা বিয়ানকোনেরাদের আজো পোড়ায়। ২০০৩ এ জুভেন্তাস উচলে রানার আপ হলেও পুরো সিজন জুড়ে নেদভেদ এর অমানুষিক পারফর্মেন্স তাকে ঐ সিজনে ফিফা ব্যালন ডি অর, সিরি আ বেস্ট প্লেয়ার অব দ্যা ইয়ার, সিরি আ বেস্ট ফরেন প্লেয়ার অব দ্যা ইয়ার এওয়ার্ড পাইয়ে দেয়। সেবার যদি উচল জিতলে হয়তো রোনালদোকে টপকে ফিফা প্লেয়ার অব দ্যা ইয়ারও হতে পারতেন তিনি। জুভেন্তাসের হয়ে তার ধারাবাহিক পার্ফমেন্স নেদভেদ কে টানা তিন সিজন উয়েফা সেরা একাদশে এ যায়গা করে দেয়। ২০০৬ এর ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্গকারির শাস্তি হিসাবে জুভেন্তাসকে সিরি বি তে অবনমন করলে যখন ভিয়ারা এমারসন জাম্ব্রোটা থুরাম ক্যান্নাভেরা ইব্রাহিমোভিচরা একে একে জুভেন্টাস ছেড়ে যায় তখন ডেল পিয়েরো বুফন দের পাশাপাশি এই পাভেলো নেদভেদও দলে থেকে যান এবং পরের সিজনে সিরি বি চ্যাম্পিয়ান করে জুভেন্টাসকে আবার সিরি আ তে তুলতে কার্যকরি ভুমিকা রাখেন।

প্লেয়িং স্টাইলে পাভেলো নেদভেদ একজন উইংগার হলেও দলের প্রয়োজনে সেন্টার মিড এটাকিং মিডে বেশ কার্যকরি ছিলেন বিশেষ করে ফ্যাবিও ক্যাপেলোর সময় ম্যাচ চলাকালিন সময়ে উইং থেকে সেন্টার এটাকিং পজিশনে নেদভেদ এর ট্যাক্টিকাল পজিশনিং বেশ ইফেক্টিভ ছিলো। শট পাস লং পাসে তার ভিশন ছিলো নিখুত পুরো মাঠ কে মনে হয় যেন ম্যাপের মত নিজে মাথায় ধারন করতেন। লেফট উইং থেকে রাইট উইং এ ক্যামেরোনেসি দিকে বাড়ানো ডায়াগুনাল লং বল গুলো ছিলো নিখুত। বাম পায়ে যেমন নিখুত ক্রসিং তেমনি ডান পায়ে ছিলো ড্রিবলিং তবে পাসিং শূটিং এ দুই পায়েই ফ্লুইড ছিলেন। লং রেঞ্জ শট আর ফ্রি কিকেও পুরোদস্তুর কম্পলিট প্যাকেজ বলা চলে। 

                         

২০০৯ তে প্রফেশনাল ফুটবল থেকে অবসর নিলেও ফুটবল থেকে দূরে থাকতে পারেন নাই ২০১০ সালে জুভেন্তাসে ডিরেক্টর হিসাবে যোগ দেন ২০১৫ সাল থেকে ভাইস চেয়ারম্যান বোর্ড অব ডিরেক্টর হিসাবে প্রমোটেড হন বর্তমানে জুভেন্তাসের সাইনিং ও ইয়ুথ সিস্টেমে তার বেশ ভালো প্রভাব আছে।

গত ৩০ শে আগস্ট পাবেলো নেদভেদ তার ৪৫ তম বছরে পা দিয়েছেন এই মিডফিল্ড জেনারেল। দেরিতে হলেও জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন