অনেক জল্পনার পর মিলানে কালিনিচ

অনেক জল্পনার পর মিলানে কালিনিচ

যাক, দীর্ঘ দামদামীর পর অবশেষে এসি মিলান ফিরেন্টিনার সাথে নিকোলা কালিনিচ নিয়ে একটি সমঝোতায় আসতে পেরেছে। বিভিন্ন সূত্র মতে ডিল হচ্ছে লোনে যেখানে ৫মিলিওন লোন ফি হিসেবে ধরা হয়েছে আর পরবর্তীতে মিলানের সুযোগ থাকবে ২০ মিলিওনে কালিনিচকে কিনে নেয়ার। যেহেতু মিলান এবার ট্র্যান্সফার মার্কেটে ২০০ মিলিওন এর উপর খরচ করে ফেলেছে সেই জন্যই ডিরেক্ট ডীল করতে পারছেনা কেনার জন্য যাতে এফএফপি এর নিয়ম-কানুনের মধ্য থেকেই ট্র্যান্সফার গুলো করতে পারে। 

পোরতো থেকে আন্দ্রে সিল্ভাকে কেনার পরেও মিলান ম্যানেজমেন্ট এর আরও একজন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার কেনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। কেননা বাক্কার ক্লাব ছাড়া অনেক নিশ্চিত ছিল আর অন্যরা কোঁচের প্ল্যান এর অংশ ছিলোনা। এর জন্য প্রথম দুই পছন্দ ছিল ডট্মুন্ড এর অবামেয়াং আর তুরনোর বেলত্তি। এই দুইজনই স্ব স্ব লীগের সেরা গোল স্কোরারদের একজন ছিল। কিন্তু তাদের উচ্চমূল্য আর এফএফপি এর রুলের কারণে মিলানকে তাউই এই দুইজনের দিক থেকে সরে আসতে হয়। আর যেহেতু কোঁচ মন্তেয়া আগে ফিওরেন্টীনায় থাকাকালীন কালিনিচের কোঁচ ছিলেন তাই ব্যাক্তিগত পছন্দ আর কোঁচের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই কালিনিচকে সান সিরোতে আনা। 

কালিনিচ অনেক আগে থেকেই মিলান হয়ে খেলার ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলো। যে কারণে অনেক আগেই সে মিলানের সাথে পার্সোনাল শর্তগুলোতে রাজি ছিল। খালি বাকি ছিল ফিওরেন্টীনার সাথে এগ্রিমেন্টে আসা। সেটাও এখন হয়ে গেল। ফলে মন্তেয়া তার পুরনো সিষ্যকে দিয়ে শত্রু বধের ছক আঁকতে পারবে তা বলাই বাহুল্য। কারন যেহেতু তারা পুরনো মিত্র ফলে কিভাবে নতুন দলের ট্যাক্টিক্সে কালিনিচকে বসাতে হবে তা মন্তেয়া খুব ভাল করেই জানে। 

ফিওরেন্টিনায় যোগ দেয়ার আগ পর্যন্ত কালিনিচ কখনোই সেই রকম অর্থে "সুপারস্টার" বলতে যা বুঝায় তা ছিলোনা। কিন্তু সিরি-আ এর অন্যতম একজন ধারাবাহিক গোল স্কোরার বলতে যা বুঝায় কালিনিচ ঠিক তাই। তিনি তার ১ম সিজনে ২৮ ম্যাচে ১৩ গোলের সাথে ৪ টি গোলেও সহায়তা করেন। এবং পরের সিজনেও তিনি ২০ গোলের সাথে আরও ৪টি গোলে সহায়তা করেন। যা সুস্পষ্ট উন্নতির লক্ষণ হিসেবে প্রমাণ রাখে। বর্তমান বাজারে যে প্রতি সিজনে ২০-২৫ গোলের নিশ্চয়তা দিবে তার জন্য ২৫ মিলিওন খরচ করা অবশ্যই একটি লাভ জনক ব্যাবসা। 

কালিনিচের খেলার ধরনঃ 
কালিনিচ যে শুধুই একজন প্রলিফিক স্ট্রাইকার তা কিন্তু নয়, বরং আরও কিছু গুনের জন্য সে একটা দারুন
"প্যাকেজও" বটে। বিশেষ করে মন্তেয়ার ভারসাটাইল ট্যাক্টীক্স এর জন্য কালিনিচের মতই কাউকে আসলে দরকার ছিল। 

গত সিজনে মিলানের মূল স্ট্রাইকার ছিল কার্লোস বাক্কা যিনি মন্তেয়ার কৌশলে মানিয়ে নিতে না পারায় এবার ক্লাব ছেড়েছেন। বাক্কা ছিল কিছুটা বক্সের মধ্যে চোরা শিকারি টাইপ স্ট্রাইকার বা ফুটবলের ভাষায় যাকে বলে "পোচার"। দলের খেলায় যার সংশ্লিষ্টতা খুবই কম থাকে। কিন্তু মন্তেয়া চান এমন একজন স্ট্রাইকার যিনি গোল করার সাথে সাথে আক্রমনের অন্যান্য সদস্যদের সাথেও অবদান রাখবেন। কালিনিচ এর আক্রমনে যুক্ত হওয়ার প্রবণতাই তাকে মন্তেয়ার অন্যতম পছন্দের একজন স্ট্রাইকারে পরিণত করে তুলেছে। কালিনিচ দীর্ঘদেহী। যেটা বাতাসে বল দখলে রাখা এবং লং বলে খেলার জন্য খুবই উপযোগী যা মন্তেয়ার বেশ প্রিয় কৌশল। তিনি বল সতীর্থদের সাথে দেয়া-নেয়া করে খেলা তৈরি বা স্লো-পাসিং এর মাধ্যমে খেলার টেম্পো কমিয়ে দেওয়ায় ও তিনি ওস্তাদ। এতো সব ট্যাক্টীক্যাল গুনের কারনেই মিলানের কোঁচের কৌশলে তিনি খুব ভালোভাবেই মানিয়ে নিতে পারবেন যা বাক্কার মধ্যে ছিলোনা। ফলে এর কারনেই বাক্কা বেশ ভাল খেললেও কোঁচের "গুডবুকে" তিনি কখনই ছিলেন না যেটা এই সিজনে তার ক্লাব ত্যাগের অন্যতম কারন বলে মনে করা হয়। 

কালিনিচের আরেকটা ভাল গুন যা হল বড় দলের সাথে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার ক্ষমতা যা তাকে বাক্কার থেকে এগিয়ে রাখে। গত সিজনে করা ১৫ গোলের মধ্যে ৫ গোলই এসেছিলো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ৫দলের বিপক্ষে। এ থেকেই বোঝা যাই তিনি কতটা চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়। তার বড় ম্যাচে গোল করার ক্ষমতা তার দলকে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফল এনে দিবে যা লিগে বর্তমানে এসি মিলানের জন্য অসম্ভব দামী। 

এরকম আরও অনেক ব্যাপারই আছে যা বাক্কার তুলনায় কালিনিচকে কোঁচ মন্তেয়ার কাছে আকাঙ্ক্ষিত এক প্লেয়ারে পরিণত করেছে। বিশেষ করে মন্তেয়ার প্রিয় ফরমেশন ৪-৩-৩ এ "টার্গেটম্যান" হিসেবে আগেও দেখা গেছে যে কালিনিচ খুবই কার্যকরী। যদিও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে যে এই ফরমেশনের বাইরে গেলে কালিনিচ "নাম্বার ৯" হিসেবে কতোটা কার্যকরী হবে। কিন্তু তার আক্রমণভাগে বৈচিত্র্যময়তা অবশ্যই কোঁচকে সুবিধাজনক অবস্থায় রাখবে। সেই সাথে দলের স্কোয়াডে আনবে গভীরতা আর ট্যাক্টিক্যাল বৈচিত্র্য যা এসি মিলানের নতুন সিজনের চলার পথে যোগ করবে এক আলাদা ডাইভারশন এবং কোঁচকে খেলায় কৌশল পরিবর্তনে দিবে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা। 

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন