১০০ মিটারের ট্র্যাকে বিদ্যুৎ মানবের শেষ স্পর্শ

১০০ মিটারের ট্র্যাকে বিদ্যুৎ মানবের শেষ স্পর্শ

লন্ডন স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে ১০০ মিটারে জীবনের শেষ রেইসে নেমেছিলেন উসাইন বোল্ট। যাকে অনেকেই ডাকে 'লাইটিনিং বোল্ট' নামে। নামের মাঝেই একটা স্পিড রয়েছে এইরকম মনে হওয়া এই এথলেটকে তুলনা করা হয় চিতার সাথে। কখনো কখনো মনে হয় পরিবেশের সবচেয়ে দ্রুতগামী এই প্রানীটিকেও বোধহয় রেইসে হারানোর ক্ষমতা রাখেন এই মানুষটি।

লন্ডন স্টেডিয়ামে ওয়ার্ল্ড এথলেটিক্স চ্যাম্পিয়ানশিপ ২০১৭ এ ১০০ মিটার হিনটসে জীবনের শেষ রেইসে জাস্টিন গাটলিনের কাছে হেরে গিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেন এই জামাইকান। ১০০ মিটার ইভেন্টের ক্ষেত্রে এইটা জীবনের শেষ দৌড় হলেও প্রকৃত শেষ দৌড় হয়ত দৌড়াবেন আগস্টের ১২ তারিখে ৪০০ মিটার রেইসে।

লন্ডন স্টেডিয়াম উসাইন বোল্টের শেষ দৌড়ের জন্যে সম্পূর্ণরুপেই তৈরি ছিলো। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকের প্রায় সকলেই চেয়েছিলেন বোল্ট যাতে বিজয়ীর বেশে শেষ করতে পারেন তার ক্যারিয়ার। তাই দুই বার ড্রাগ টেস্টে ধরা পড়ে নিষিদ্ধ হওয়া গাটলিনের কাছে হেরে যাওয়ার পর অনেকেই সেটা মেনে নিতে পারেননি এবং সে কারণেই হয়ত ব্যু ব্যু আওয়াজ তুলেছিলেন তারা। ৩০ বছর বয়েসী এই তারকা এথলেট বোল্ট তার অবসরের ঘোষনা অবশ্য দিয়েছিলেন ২০১৫ সালে। কিন্ত, ২০১৬ এর রিও অলিম্পিক সামনে রেখে তিনি তার মত বদল করেন এবং পরবর্তিতে স্পন্সারদের অনুরোধে ঘোষনা দেন ২০১৭ সাল লন্ডন স্টেডিয়ামেই হবে তার শেষ রেইস।

নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বোল্ট বলেন তিনি চান মানুষ যাতে আনবিটেবল এবং আনস্টোপেবল হিসেবে মনে রাখে। খালি চোখে দেখলে গতকালের এই ১০০মিটার হিন্টসে জীবনের শেষ রেইসে তার সাথে পাল্লা দেওয়ার জন্যে ফ্যাভারিট হিসেবে ছিলেন আরো দুইজন এথলেট। তারা হলেন, ক্রিস্টিয়ান কোলম্যান ও নোয়াহ লাইলস। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত গাটলিন স্বর্ণ, কোলম্যান রৌপ্য ও বোল্ট ব্রোঞ্জ জিতেন। ২০০৮,১২ ও ১৬ অলিম্পিকের ১০০,২০০ ও ৪০০ মিটার হিন্টসে একটানা স্বর্ন জিতেন গতিদানব বোল্ট। ওয়ার্ল্ড এথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ ও ২০০ মিটারে এখন পর্যন্ত এক বার রৌপ্য ও গতকালের ব্রোঞ্জ ছাড়া সবগুলোতেই স্বর্ণ জিতেন এই তারকা স্প্রিন্টার। অনেকের মতে তাই, গতকালের এই ব্রোঞ্জ বোল্টকে আসলে পূর্ণতা এনে দিয়েছে। তবে তার ১০০ মিটারে করা ৯.৫৮ সেকেন্ডের এবং ২০০ মিটারে করা ১৯.১৯ সেকেন্ডের ওয়ার্ল্ড রেকর্ড খুব সহজেই যে ভাঙবে না তা সহজেই অনুমেয়।

বোল্টের এই হেরে যাওয়া প্রমাণ করে দিনশেষে তিনি একজন মানুষ। লন্ডন স্টেডিয়ামে উপস্থিত সকলেই সাথে টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে যারা গতকাল বোল্টের শেষ রেইসটি দেখেছেন তারা সবাই হয়ত তার সেই বিশেষ উদযাপন দেখার অপেক্ষায়ও ছিলেন। তার সেই বিখ্যাত 'To Di World' মোভ না দেখতে পারলেও বোল্ট ঠিকই ওয়ার্ল্ডের সর্বকালের সেরা একজন এথলেটিক হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন এবং নিশ্চিতভাবে জায়গা করে নিয়েছেন সকলের মনেও। ট্রেক এন্ড ফিল্ডের দুনিয়া তাকে যে খুব বেশী করেই মিস করবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন