দল ছাড়ছেন রেনাতো সানচেস?

দল ছাড়ছেন রেনাতো সানচেস?

রেনাতো সানচেস। উনিশ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ যুবা গত গ্রীষ্মে আলোড়ন তুলেছিলেন ট্রান্সফার মার্কেটে। শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ক্লাবের বড় অংকের অফার উপেক্ষা করে যোগ দিয়েছিলেন বায়ার্ন মিউনিখে। বিনিময়মূল্যটাও নেহাত কম ছিলো না। ৩৫ মিলিয়নকে বর্তমান বাজারে কিছু কম মনে হতে পারে, কিন্তু যখন শুনবেন ৩৫ মিলিয়ন খরচ করা ক্লাবের নামটা বায়ার্ন মিউনিখ, তখন প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ থাকে কমই।

সত্যিই অসাধারণ প্রতিভা হিসেবেই বিবেচিত এই তরুণ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, যিনি কিনা মিডফিল্ডের আরো কয়েকটি পজিশনেও প্রায় সমান দক্ষ। কিন্তু প্রতিভাকে মাঠে অনূদিত করতে না পারলে যে মুশকিল! আর বায়ার্নের মত উচ্চাভিলাষী ক্লাবের ক্ষেত্রে তো প্রায় ক্ষমাহীন অপরাধ। মাসুল হয়ত দিতেই হচ্ছে সানচেসকে। দলে তেমন জায়গা হয়না, ওদিকে সানচেস আবার খেলতে মরিয়া। সব মিলিয়ে ট্রান্সফার মৌসুমের শুরু থেকেই তার দল ছাড়ার গুঞ্জন।

তবে এমন তরুণ প্রতিভাকে এই দূর্মুল্যের বাজারে পেয়ে নড়েচড়ে বসতে দেরী হয়নি কিন্তু ক্লাবগুলোর। গত গ্রীষ্মেও ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লক্ষ্য। এবারেও তাদের সাথে যোগ দেওয়ার জোর গুঞ্জন ছিলো মিডিয়ায়। কিন্তু গুজব শেষ পর্যন্ত বাস্তবে পরিণত হওয়ার মত কিছু শোনা যায়নি আর। তবে সানজেসের নতুন ঠিকানা নিয়ে গুজব ছড়ানো তাতে থামে নি। সর্বশেষ সংস্করন নব্য উদ্যমে জেগে ওঠা এসি মিলান।

ইতালির লম্বারডি প্রদেশের রাজকীয় ক্লাবটি অর্ধযুগ পর নতুন মালিকের অধীনে অবশেষে আড়মোড়া ভেঙ্গেছে। ইতিমধ্যে একঝাক তারকা দলে ভেড়ানোর পাশাপাশি দলের সেরা প্রতিভাদের ধরে রেখে নতুন শুরুর পথে থাকা ক্লাবটির দরকার যখন একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, সানজেসের চেয়ে আদর্শ এ মুহুর্তে তাদের জন্য কে হতে পারে! গুঞ্জন তাই ধীরে ধীরে বাস্তবের দিকেই এগোচ্ছে।

বায়ার্নের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিজেও মিলান কিংবদন্তী। সাবেক ক্লাবের প্রয়োজন আর দলে সানজেসের নড়বড়ে অবস্থান, সব মিলিয়ে তিনি খোলাখুলি বলে দিয়েছেন সানজেসকে মিলানে দেখতে মন্দ লাগবে না তার! আপাতত মিডিয়া বলছে মিলানের পথেই আছেন সানচেস। আপাতত হয়তো ধারে যোগ দেবেন মিলানে, এরপর পাকাপাকি কিনে নেয়ার অপশনও পাবে মিলান।

তবে ট্রান্সফার বাজার এখন আগের চেয়ে অনেক অস্থিতিশীল। যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে এখনো সানচেসের ভাগ্যে। তবে শেষ মুহুর্তে নাটকীয় কিছু না ঘটলে হয়তো মিলানই হবে তার পরবর্তি ঠিকানা। শেষ পর্যন্ত যাই ঘটুক, ফুটবলপ্রেমীরা চাইবে পরবর্তী মৌসুমে এই অস্ফুট প্রতিভার পায়ে সুন্দর ফুটবলের বিচ্ছুরন দেখতে। বয়সভিত্তিক দলের হারিয়ে যাওয়া প্রতিভাদের বিরাট মিছিলে আরেকজন যোগ দিক, এমনটি যে কেউ দেখতে চায় না!       

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন