ট্রান্সফার সাগা : নেইমার, পিএসজি এন্ড রেড ওয়েডিং

ট্রান্সফার সাগা : নেইমার, পিএসজি এন্ড রেড ওয়েডিং

নেইমারের এখন ট্রান্সফার মার্কেটের সবচেয়ে গরম টপিক। বার্সেলোনার এই তারকা পিএসজি যাবে কি না বা সফল হবে কিনা, তা পিএসজি তে তার ভবিষ্যৎ এর জন্য তোলা থাক, সেইটা না হয় সময় বলে দিবে। কিন্তু এখন তা আলোর মত সত্য যে কিছু একটা তো ভেতরে হচ্ছেই। তাই যারা তুড়ি মেরে বা হাহা রিয়েকেট এ উড়িয়ে দিচ্ছেন এইসব খবর তাদের জন্য এই লেখা। আর যারা পিএসজি রিলিজ ক্লজ পরিশোধ এর ব্যাপার নিয়া সন্দিহান তারাও পড়ে দেখতে পারেন।

হালের ফুটবলে নেইমার এর ট্রান্সফার বলে দেয় যে দিন বদলাচ্ছে। এখন 'পেট্রো মানিতে' বেশ প্রভাবিত বাজার। কিন্তু ফুটবলের এর উন্নয়ন ও সাথে সাথে হচ্ছে তাই এখন আর বড় ক্লাব গুলো ও নিশ্চিত না যে তারা তাদের প্লেয়ার ধরে রাখতে পারবেই, কিংবা চাওয়া মাত্রই প্লেয়ার পেয়ে যাবে সেটা ভাবার অবকাশ নেই। আর এটার সবচেয়ে বড় উদাহরণ কিন্তু বার্সা ম্যানেজমেন্ট। এখন কোমর, শিড়দাড়া মজবুত থাকতে হবে আর থাকতে হবে পরিকল্পনা এন্ড কনভেনসিং পাওয়ার। এর জন্যই পেরেজ কিংবা এড উডওয়ার্ড , আর হাই প্রোফাইল কোচ যেমন পেপ গার্দিওলা, মোরিনহো, কন্তে বা জিদান এদের সামনে ট্রান্সফার বাজারে টিকে থাকা কষ্টকর হচ্ছে এবং এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরব শেখরা বা পেট্রো ডলারের গডফাদাররা যাদের সাথে টক্কর দিয়ে প্লেয়ার ছিনিয়ে আনা, কিংবা ধরে রাখাও সম্ভব হচ্ছেনা। আর খেলোয়াড়রাও এখন খোজে ভালো প্রস্পেক্ট, আর ভালো টাকা, এখন আর লয়ালিটি বা ক্লাবের ইতিহাস দিয়ে প্লেয়ার দের ঘোল খাওয়ানো যায় না। এর জন্যই কেবালোস এর মতো তরুন প্রতিভা ফার্স্ট টিম পসিবিলিটি বেশি থাকা সত্তেও বার্সা বাদ দিয়ে মাদ্রিদকে চুজ করে। আর এই জায়গাই বার্সা ম্যানেজমেন্ট করে বড় ভুল তারা টক্কর দিতে যায় শেখদের সাথে। বার্সার সম্পূর্ণ অধিকার ছিলো ভেরেত্তি এর প্রতি ইন্টারেস্ট দেখানোর কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও বারবার খেলোয়াড়কে ম্যানুপুলেট করার ট্রাই করেছে তারা। শুধু তাই না ভেরেত্তিকে দিয়ে ম্যানেজমেন্ট এর উপর আলাদা চাপও দিয়েছে। তারা ভেবেছিল যে ফেব্রেগাস এর মতো টানা হেচড়া করে মনে হয় তারা শেখদের সাথে পার পেয়ে যাবে। এগুলোই  মুলত এই ট্রান্সফার ট্রিগার করার পিছনে প্রভাবক ছিলো। হ্যা, এর পাশাপাশি পিএসজি এর বড় টিম হয়ে উঠার ইচ্ছাও ছিলো কিন্তু যদি ট্রান্সফার মার্কেট কেউ ভালো ভাবে অনুসরন করে তাহলে দেখা যাবে যে বড় টাকাওয়ালা ক্লাবগুলো কিন্তু একটা পারস্পরিক বোঝাপড়া এর মধ্য দিয়ে ব্যবসা করে, এর জন্য মেসির গত কন্ট্রাক্ট রিনিউ/ট্যাক্স ইস্যু কিংবা হালের ডোনারুমা সাগা এর সময় অন্য বড় ক্লাব গুলো কিন্তু এইরকম ভাবে উঠেপড়ে লাগে নাই যেখানে মাদ্রিদ, ম্যান ইউনাইটেড এর সরাসরি সুযোগ ছিলো রিলিজ ক্লস ট্রিগারের, এইটা কিন্তু ওই বোঝাপড়ারর জন্যই হইছে। কিন্তু এইবার বার্সা ম্যানেজমেন্ট সম্ভবত পিএসজির সাথে বোঝাপড়ায় কিছুটা আঘাত হেনেছে!

এইবার আসি নেইমার ট্রান্সফার পসিবিলিটি নিয়ে, একবাক্যে বলবো পুরোপুরি সম্ভব। এখনই ক্যালকুলেটর নিয়ে হিসাবে বসার দরকার নেই পিএসজি এর লিগাল FFP এইবার সব মিলিয়ে ১৮০ মিলিয়ন কিন্তু নেইমারের ক্লস ত ২২২ প্লাস আরো কিছু টাকা ত যাবে তার এজেন্ট মানে বাবা কে দিতে,  মনে হচ্ছে  তাই না? আরে ভাই, খেলাটাই ত এখানে। পিএসজি এই ক্লজ পে করবে এবং নিয়মের ভিতরে থেকেই। কি জাদু করবে নাকি ভাই? না ভাই গ্লিচ বা বাগের নাম শুনছেন?? হে ফিফায় যেইটা হয় সেইটাই, এই আয় ব্যায়ের হিসাবেও ঠিক এমন ই গ্লিচ বের করে সেরা লবিস্টরা, তারা তাদের ক্লায়েন্টদের পক্ষে সবচেয়ে পসিবল আউটকাম টাই সাজেস্ট করে। তাই পিএসজি যখন নেইমার কে চেয়েছে তাদের লবিস্ট সে বাগ টা খুজে বের করে দিচ্ছে পিএসজি র জন্য। যেইটা হইলো টাকা ক্লাব টু ক্লাব পরিশোধ না করে প্লেয়ার কে দিয়ে পে করাও আর তাকে ফ্রি এজেন্ট করে সাইনিং সম্পন্ন করাও। কিন্তু ব্যাপার টা এতো সহজ না, কারণ টাকা ত দেখা যাচ্ছে সেই ক্লাব কেই পরিশোধ করতে হচ্ছে আর এইখানে ত অসুদুপায় অবলম্বন করার কোন জায়গা নেই কারণ সারা দুনিয়ার সবাই দেখছি আর অপজিশন ক্লাবের লবিস্ট তো বসেই আছে ডিলটা নস্যাৎ করে দিতে। আর এইখানেই ইন্ট্রো হয় স্পন্সর দের, মানে টাকাটা ক্লাবের হয়ে পে করবে স্পন্সর এর বিনিময়ে তারা বাগিয়ে নিবে ক্লাবের থেকে ডিল। মেসির সিচুয়েশন এ কিন্তু বড় ভাই কেউ আগ্রহী না হইলেও বারবার এডিডাস চেলসি কে বলতেছিলো মেসির এর সাথে যোগাযোগ করে রিলিজ ক্লজ এক্টিভেট করতে কিন্তু এর আগে মেসির এর সমস্যা মিটে যাওয়ায় সেই সুযোগ হয়নি। আর পিএসজি এর স্পন্সর কাতার ভিত্তিক কম্পানি QSI, QTA এই ট্রান্সফারের বিনিময়ে তারা পিএসজি এর জার্সি তে নাম উঠাবে, যেই নাম বার্সার জার্সিতে ও ছিলো গতসিজন পর্যন্ত। এখন ২ এ ২, ৪ মিলালে অনেক কিছুই মিলে যায় তবে সেইদিকে না যাই আমরা। স্পন্সরা চাইলে পুরো টাকাটা হালাল পন্থায় পৌঁছে দিবে পারবে নেইমারের হাতে, শুধু  নেইমারকে কাতার এর ব্র্যান্ড এমেসিডার বানিয়ে, আর স্পন্সরদের একপক্ষ কিন্তু QTA (Qatar Tourism Authority) । তাহলে দেখা যাচ্ছে এই ট্রান্সফার সম্ভব এবং পিএসজি এর টাকা থেকে এক পয়সা না খসিয়েও সম্ভব। আর তাই পিএসজি শুধু নেইমার না তাদের পুরো ১৮০ (প্রায়)  মিলিয়ন দিয়ে সাঞ্চেজ থেকে শুরু করে যাদের সাধ্যের মধ্যে পড়বে তাদেরই কিনবে ।

আর যারা হিসাবে বসেছেন যে পিএসজি এত টাকা দিয়ে নেইমার কিনে টাকা উঠাতে পারবে কিনা? জার্সি বিক্রির টাকাও ত খুব বেশি পাবে না আর এখনত কাতার তাদের ইচ্ছেমত ডিল করিয়ে নিবে, তাদের জন্য একটা আনন্দ সংবাদ QSI গ্রুপ যারা কিনা স্পন্সর দের মধ্যে একপক্ষ তাদের মালিক ও কিন্তু নাসের আল খিলাফি মানে পিএসজি প্রেসিডেন্ট। আর  তাদের জন্য একটাই বানী শেখদের আন্ডারইস্টিমেইট এর মতো ভুল না করাই ভালো। তারা মরুভূমির উপর ও কিন্তু দুবাই দেখতে পায় যা আপনার আমার মাথার আকাশে উকি ও দেয় না, তাই আমরা এইদিকে না ভাবাই ভালো। শেখরা জাতে মাতাল কিন্তু বিজনেস সবসময় ঠিক।

শেষ কিছু কথা :

এই পোস্ট পড়ে কেউ আবার শেখদের সুপার হিউম্যান ভাববেন না, তারা চাইলেই যেই কাউকে নিয়ে নিতে যেমন এখন পারে না ভবিষ্যৎও পারবেনা। কারণ সবকিছুই চলে ওই বোঝাপড়ায়।  এর জন্যই ভারত-পাকিস্তান প্রতিদিন তলোয়ার-ঢাল দিয়েও যুদ্ধে নামেনা তেমনি এই ট্রান্সফার হয়ে গেলেও দলে দলে সব পিএসজি তে যাবে না। তবে ভারত - পাকিস্তানিদের মধ্যে যেমন সেনা হত্যার মতো ঘটনা ঘটে তেমনি বাগরা দিতে গেলে শেখরা কি করতে পারে এইটাই হয়তো তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর এই ট্রান্সফার শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়ে গেলে লিগ ওয়ান এর প্রচুর উন্নয়ন হবে সাথে একজন ল্যাতিন আইকন মানে বড়সড় একটি আন্তর্জাতিক সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে ওঠার সমূহ সম্ভাবনা। এই জন্যই QTA, QSA এর মতো কোম্পানি মিলিয়ন ডলার বিলিয়ে দিতে কার্পণ্য করবে না। আর আরেকটি কথা পিএসজিও কোন ছোট ক্লাব না, আর লেগেসি সবসময় বিল্ট ইন থাকে না অনেক সময় তৈরী করে নিতে হয়, গোল্ডেন জেনারেশন (ক্রুয়েফ যুগের) এর আগে বার্সা ও কিন্তু বর্তমান লেগেসির ছিটেফোঁটাও ছিলো না কিন্তু এই জেনারেশন টা ঠিকই লেগেসি দাড় করিয়ে দিয়েছে। হয়তোবা পিএসজি এর ক্ষেত্রে নেইমার, সাঞ্চেজ রাই হতে পারে সেই গোল্ডেন জেনারেশন আবার কিছুই না হতে পারে, ট্রান্সফার টাও ভেস্তে যেতে পারে। তবে পিএসজি দলে কিন্তু প্রত্যেক পজিশনেই  বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে হয়তো দুই-একটি পজিশন ছাড়া, যেটা এখন বার্সার নিজেদেরও হয়তো নাই তাই যারা ভাবছেন যে নেইমার জলে ভেসে যাবে, মনেহয় না তেমনটি হবে বাকিটা সময়ের উপর।

আর এই ট্রান্সফার এর জন্য পিএসজির ও কিছুটা সমস্যা হতে পারে, এই হিউজ স্যালারির কারণে সামনে বিগ প্লেয়ার সাইন করাইতে বেগ পাইতে হবে অনেক FFP মারপ্যাঁচে। এছাড়াও পিএসজি সব ঠিকভাবে করার পরও হয়তোবা ফিফার ব্যানের নিউজ আসলেও আসতে পারে যেইটা খুবই স্বাভাবিক হবে হয়তো। আর এইকাজ যেকোন ক্লাবই করাতো এমনি ভবিষ্যৎ কে ছিনিয়ে নিলে। তবে পিএসজি সম্ভবত খুব একটা এটা নিয়ে ভাববেনা কারন তাদের যে টিম দাড়াবে তা দিয়ে দুই সিজন অনায়াসে কাটানো সম্ভব। আর এই ট্রান্সফারের পুরো ব্যপারটা অনেক জটিল, হয়তোবা পুরো ট্রান্সফার উইন্ডো লাগবে এই সাগা শেষ হতে, তাই যারা ভাবছেন যে সকালে উঠেই দেখবেন পিএসজি এর জার্সি গায়ে নেইমার বা বার্সাতেই থাকছে নেইমার এমন ঘোষণা সহসাই আসছেনা। কারণ বেতনের পরিমান আর 'মেইনম্যান' হওয়ার সুযোগ সবাইকেই দুবার ভাবতে বাধ্য করাবে। তবে এই সময় আমরা দুই পক্ষের ভালো স্ট্যান্ডবাজি দেখতে পারবো, মিডিয়া বলবে সব এগ্রিমেন্ট শেষ  নেইমার প্লেনে আর বার্সা জানাবে নেইমার হাসিখুশি গতকাল ও সুয়ারেজকে কাতুকুতু দিছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে কাজ ঠিকই চলবে। আর এই ট্রান্সফার এ কিন্তু নেইমারের এগ্রি করা ছাড়া সব কাজই তার এজেন্ট বাবাই করবে, তাই নেইমারের হাসি-কান্নার সাথে ট্রান্সফার এর যোগসুত্র খুব একটা মিলবেনা, তাই প্রেশার না নিয়ে শুধু মজা দেখুন।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন