জোসে মরিনহো দ্যা স্পেশাল ওয়ান

জোসে মরিনহো দ্যা স্পেশাল ওয়ান

১.
১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া একটা দল ইংলিশ লীগে বেশীরভাগ সময় শীর্ষ দশে থেকে সিজন শেষ করে। যে সময়ের কথা বলছি তখন পর্যন্ত ১৯৯২ সালে প্রিমিয়ার লীগ শুরু হবার পর কখনো লীগ চ্যাম্পিয়ন দূরের কথা রানার্স আপও হতে পারেনি। কেবল মাত্র প্রিমিয়ার লীগ শুরু হবার আগে যখন ইংলিশ প্রথম বিভাগ চালু ছিল তখন ১৯৫৪-৫৫ সালে একবার লীগ জেতে। কিন্তু ২০০৩ সালে রাশিয়ান তেল ব্যাবসায়ী রোমান আব্রামোবিচ ক্লাবটিকে কিনে একটু ঢেলে সাজানোর টার্গেট নেন। অনেক খেলোয়াড়ও কিনে আনে। কিন্তু কোচ Claudio Ranieri এর অধীনে লীগে রানার্স আপ হয়। অন্য কোন কাপও জিততে পারে না। তখন আব্রামোবিচ অফার করেন সেই সময়ে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা মরিনহোকে। 
কেন মরিনহোকে অফার করলেন সেটা বুঝতে হলে মরিনহো সম্পর্কে কিছু ইতিহাস আপনাকে জানতে হবে। শোনা যাক তাহলে কিছু ইতিহাস। 
২.

ফুটবলার হিসেবে মরিনহো খুব বেশী দিন খেলেন নি কিংবা সফলও হন নি। পড়াশোনা করা অবস্থায় তিনি কয়েকটি ছোট ও মাঝারি মানের পর্তুগীজ ক্লাবে খেলেছেন। কিন্তু এক পর্যায়ে তিনি তার সীমাবদ্ধতা বুঝতে পেরে খেলা ছেড়ে কোচিং এ মন দেন। মরিনহো প্রেরণাদায়ী এবং মানসিক কৌশলের সঙ্গে কোচিং তত্ত্ব মিশিয়ে ফুটবলে কোচের ভূমিকা নতুন ভাবে দেখান। 
তিনি তার নিজ শহরে ভিক্টোরিয়া দি সেন্তুবাল ক্লাবে যোগ দেন ১৯৯০ দশকের শুরুতে। পরবর্তীতে তিনি স্যার ববি রবসনের অধীনে স্পোর্টিং লিবসনে কাজ করার সুযোগ পান একজন অনুবাদক হিসেবে। 
মরিনহোর কাজ ছিল মূলত রবসনের সাথে ট্যাকটিক্স এবং কোচিং নিয়ে আলোচনা করে সেটাকে অনুবাদ করা এবং খেলোয়াড়দের বুঝানো। ১৯৯৩ সালে রবসন পোর্তোতে যোগ দেন এবং মরিনহো দোভাষী হিসেবেই রবসনের সাথে পোর্তোতে চলে আসেন। এ সময় রবসন মূল কোচ হন এবং মরিনহো তার সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এ সময় পোর্তো দুটি লীগ জেতে, একটা পর্তুগীজ কাপ জিতে আর তিনটা পর্তুগীজ সুপার কাপ জিতে। 
কিন্তু ১৯৯৬ সালে এই জুটি বার্সালোনায় যোগ দেন এবং এখানে মরিনহো ক্যাটালান ভাষা শেখেন। এই জুটি বার্সালোনাকে UEFA Cup Winners' Cup জেতান। এর পর রবসন ক্লাব ছেড়ে পিএসভি তে চলে যান কিন্তু এসময় মরিনহো থেকে যান বার্সালোনায় এবং রবসনের পরবর্তী বার্সেলোনার ডাচ কোচ লুইস ভ্যান গালের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। মরিনহোর ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাসের কারণে তিনি তার মূল কাজের বাইরে বিভিন্ন কোচিং ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত মরিনহো এফসি বার্সেলোনা বি দলের কোচ নির্বাচিত হন। ফন গাল তার কাজে এতটাই সন্তুষ্ট ছিলেন যে Copa Catalunya টুর্নামেন্টে মরিনহোকে মূল দলের দায়িত্ব দিয়ে নিজে মরিনহোর সহকারী হিসেবে কাজ করেন। মরিনহো ২০০০ সালে এই কাপ জিতে ফন গালের আস্থার প্রতিদান ভালো ভাবেই দেন। 
৩.
২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে মরিনহো বেনফিকার সহকারি ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন কিন্তু লীগ শুরু হবার চতুর্থ সপ্তাহে যখন মূল কোচ হেইঙ্কেস চলে যান তখন বেনফিকা ম্যানেজম্যান্ট তাকে মূল কোচে পদন্নতি দেন। তিনি এসময় অবসরপ্রাপ্ত বেনফিকা ডিফেন্ডার কার্লোস মোজার কে তার সহকারী হিসেবে নির্বাচন করেন।
এই জুটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল, বিশেষত চির-প্রতিদ্বন্দ্বী স্পোর্টিংকে ৩-০ গোলে হারানোর পর। বেনফিকার ক্লাব প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোয়াও ভালে ই আযেভেদো হেরে যান এবং নতুন প্রেসিডেন্ট হন মানুয়েল ভিলারিনহো, যিনি আরেকজন কিংবদন্তি বেনফিকা খেলোয়াড় টনিকে কোচের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। যদিও ভিলারিনহো মরিনহোকে তাক্ষনিৎভাবে বরখাস্ত করতে চাননি তবে মরিনহো মৌসুমের মাঝেই তার কাছে তার চুক্তির বাড়ানোর দাবি করেন। ভিলারিনহো তাতে রাজি না হলে মরিনহো বেনফিকা ত্যাগ করেন ২০০০ সালের ৫ ডিসেম্বর (মাত্র ৯টি লীগ খেলার পর)। ভিলারিনহো পরে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন মরিনহো যদি মৌসুমে লীগ শিরোপা জিততেন তবে তিনি তার চুক্তি বাড়াতেন।
মরিনহো দ্রুতই নতুন ম্যানেজারের চাকরি পেয়ে যান ২০০১ সালের জানুয়ারি মাসে। তিনি মধ্যমসারির একটি দল ইউনিয়াও দি লেইরিয়া এর ম্যানেজার হন এবং তাদেরকে লীগে পঞ্চম অবস্থানে উন্নীত করেন যা ছিল তাদের সেরা লীগ অবস্থান। মরিনহো এ সময় বেনফিকার ঠিক ওপরেই লীগ শেষ করেছিলেন।
মরিনহো এরপর ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে যোগ দেন পোর্তো ক্লাবে। পোর্তো ক্লাবের তৎকালীন অবস্থা ছিল বেশ নাজুক। তারা লীগ শিরোপা তো দূরে থাকুক কোন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দীতা করার সুযোগ না পাওয়ার অবস্থায় ছিল। তিনি তখনকার ম্যানেজার অক্টাভিও মাছাদোর স্থলাভিষিক্ত হন। মরিনহো দলকে সে বছর লীগে তৃতীয় অবস্থানে উঠান। তিনি ১৫ টি খেলার মধ্যে ১১ জয়, ২ ড্র ও ২পরাজয়ের মাধ্যমে এ অবস্থানে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার দল পরবর্তী উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ।
তিনি পোর্তোকে একটা সেরা দলে পরিণত করার জন্য দ্রুত কিছু খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করেন । এদের মধ্যে রয়েছেন বাইয়া, রিকার্ডো কারভালহো, কস্তিনহা, দেকো, দিমিত্রি আলেনিচেভ ও পস্তিগা। তিনি ছয়মাস ধারে চার্লটন অ্যাথলেটিকে থাকা (আগের কোচের সাথে বাকবিতন্ডার কারণে) অধিনায়ক জর্জ কস্তা কে দলে ডেকে আনেন। এছাড়া তিনি নুনো ভ্যালান্তে, দেরলেই কে লেইরিয়া, পাওলো ফেরেইরা কে ভিক্টোরিয়া সেতুবাল, পেড্রো এমানুয়েলকে বোয়াভিস্তা এবং এডগারাস জ্যাঙ্কাউস্কাস ও মানিশ কে বেনফিকা থেকে কেনেন।
মৌসুমের শুরুতে মরিনহো ক্লাবের ওয়েবসাইটে দলের প্রশিক্ষনের ওপর একটা রিপোর্ট প্রকাশ করেন। এই রিপোর্টে তিনি প্রচলিত শব্দের বদলে প্রাতিষ্ঠানিক শব্দ ব্যবহার করে সবাইকে চমকে দেন। যেমন ২০কিমি জগিং এর বদলে তিনি দীর্ঘায়িত অ্যারোবিক ব্যায়াম ব্যবহার করেন। তার এ নতুন ভাবে উদ্ভাবিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি পর্তুগালে বেশ সাড়া ফেলে। মরিনহোর খেলার বিশেষ বৈশিষ্ঠ্য ছিল তিনি খেলায় বেশি চাপ প্রয়োগ করতেন। শক্তিশালী ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডারগণ যেমন, দেরলেই, মানিশ ও ডেকো আক্রমণ ভাগ থেকেই চাপ প্রয়োগ করে খেলতেন এবং বিপক্ষ দলকে বল ছেড়ে দেয়া বা লম্বা পাসে প্ররোচিত করতেন।
২০০৩ সালে মরিনহো প্রথম সুপার লিগা জেতেন ২৭-৫-২ (জয়-ড্র-হার) রেকর্ডে। তিনি তার সাবেক ক্লাব বেনফিকার তুলনায় ১১ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। তিনি সম্ভাব্য ১০২ পয়েন্টের ভিতর ৮৬ পয়েন্ট জেতেন যা প্রতি জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ম চালু করার পর সর্বোচ্চ পয়েন্ট জেতার নতুন পর্তুগিজ রেকর্ড। পূর্ববরতী রেকর্ড ছিল ১৯৯৬/৯৭ মৌসুমে পোর্তোরই ৮৫ পয়েন্ট। মরিনহো এছাড়া পর্তুগিজ কাপ জেতেন লেইরিয়া ক্লাবের বিপক্ষে এবং উয়েফা কাপ জেতেন সেল্টিকের বিপক্ষে ২০০৩ সালের মে মাসে।
পরবর্তী মৌসুমগুলোতে তিনি আরো সাফল্য পান, পোর্তো তাদের ২০তম সুপার লিগা খেতাব অর্জন করে। ক্লাবটির নিজ মাঠে খেলার ফল ছিল খুবই ভাল। মৌসুম শেষের পাচ সপ্তাহ আগেই তারা লীগে শীর্ষস্থান দখল করে এবং চ্যাম্পিয়নস লীগেও ব্যস্ত সময় কাটায়। পোর্তো বেনফিকার কাছে ২০০৪ সালের মে মাসে পর্তুগিজ কাপ হেরে বসে। কিন্তু মরিনহো তার চরম সাফল্য পান যখন তিনি চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতেন। জার্মানির অ্যারেনা আফসালকে মাঠে মোনাকোর বিপক্ষে তার দল ৩-০ গোলে জেতে। ফাইনালে ওঠার পথে ক্লাবটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, অলিম্পিক লিওনেস ও দেপোর্তিভো দে লা করুনা কে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় করে দেয়। ক্লাবটি কেবল গ্রুপ পর্যায়ের একটি খেলায় রিয়াল মাদ্রিদের কাছে পরাজিত হয়েছিল। পোর্তো তাদের ইতিহাসে মাত্র দুইবার চ্যাম্পিয়ন লীগ জিততে পারে। একটা মরিনহোর আমলে, আরেকটা ১৯৮৭ সালে। এছাড়া কখনো ফাইনালেও খেলার সুযোগ পায়নি। 
এই সব সফলতার কারণেই আব্রামোবিচ তার প্রতি উৎসাহী হয়ে উঠে। তবে প্রচারমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী চেলসির সাথে লিভারপুলও আগ্রহী ছিল মরিনহোকে নেওয়ার বিষয়ে। মরিনহো জনসম্মুখে চেলসির চেয়ে লিভারপুলের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "লিভারপুল এমন একটি দল যেটি সকলের আগ্রহ জাগায় এবং চেলসি আমার আগ্রহ জাগায় না কারণ এটি নতুন প্রকল্প যাতে অঢেল অর্থের বিনিয়োগ রয়েছে। আমার মনে হয় এটি এমন একটি প্রকল্প যাতে ক্লাব সবকিছু বিজয়ে ব্যর্থ হলে, আব্রাহামোভিচ অবসর নিবে এবং ক্লাব থেকে অর্থ প্রত্যাহার করে নেবে। এটা একটা অনিশ্চিত প্রকল্প। একজন কোচের কাছে ভাল খেলোয়াড় কেনার অর্থ থাকাটা আনন্দের কিন্তু আপনি কখনই জানেন না যে এই ধরনের প্রকল্প সফল হবে।"
৪.
তবে শেষ পর্যন্ত মরিনহো চেলসিতেই যোগ দেন ২০০৪ সালের জুন মাসে এবং প্রতি বছরে ৪.২ মিলিয়ন পাউন্ড বেতনের ফলে ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ম্যানেজারের খাতায় নাম লেখান। ২০০৫ সালে এ বেতন বেড়ে হয় ৫.২ মিলিয়ন পাউন্ড। এই সময়ে তিনি চেলসির হয়ে দুটি লীগ, ১ টি এফ এ কাপ, দুটি লীগ কাপ এবং একটা কমিনিটি শিল্ড জিতেন। চেলসির প্রিমিয়ার লীগ ইতিহাসের ৪টি শিরোপার ৩ টিই মরিনহোর অধীনে ( পরের বার এসে আরেকটা পান ২০১৪-১৫ সিজনে)। 
কিন্তু এত সফলতার পরেও মরিনহকে বরখাস্ত করা হয় কারণ উনি চেলসিকে নিয়ে ২০০৭-০৮ সিজনে কোন শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়। 
২০০৮ সালে মরিনহো ইন্টারমিলানের কোচ হন। যখন দায়িত্ব নেন তখন ইন্টারমিলান লীগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই ছিল কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ভালো করতে পারছিল না। দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সিজনে লীগের সাথে ইটালিয়ান সুপার কোপা জিতেন কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লীগে দ্বিতীয় পর্বেই বাদ পড়ে যান। কিন্তু পরের সিজনে লীগের সাথে সাথে ইটালিয়ান কাপ জিতে নেন। তব সফলতা পরিপূর্ণ হয় চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার মধ্য দিয়ে। 
চ্যাম্পিয়ন্স লীগে সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ ছিল দূর্দান্ত ফর্মে থাকা বার্সার বিপক্ষে সেমি ফাইনাল ম্যাচ। তাতে ঘরের মাঠে ৩ গোল দিলেও মূল্যবান অ্যাওয়ে গোল পায় বার্সা। বার্সার পরের কাজ ছিল নিজেদের মাঠে ২ গোল দেওয়া। ম্যাচটা বার্সা জিতে ১-০ গোলে। এই ম্যাচ হারার পর মরিনহো বলেছিল এই তার তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মধুরতম হার। 
ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে প্রথম ইটালিয়ান ক্লাবের হয়ে ট্রেবল জিতেন। 
চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার পর মরিনহো বলেন, ‘এটাই ইন্টারের হয়ে আমার শেষ ম্যাচ। আর আপনি যদি কোচ হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদকে কোচিং না করান তাহলে আপনার ক্যারিয়ারে সবসময় একটা বড় অপূর্ণতা থেকে যাবে’। 
এর পর ইন্টারমিলান আর রিয়াল মাদ্রিদের দুই পক্ষের সমঝোতায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ দিয়ে কোচ হিসেবে নিয়ে যান মরিনহোকে। 
ইন্টারমিলানের জন্য মরিনহো কতটা জরুরী ছিল? মরিনহো আসার আগে ইন্টার মিলান চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতে ১৯৬৪ আর ১৯৬৫ সালে। মরিনহো ইন্টার ছাড়া পর এখন পর্যন্ত আর ফাইনালেও খেলতে পারেনি। ঘরোয়া লীগেও খুবই দূর্দশা। মরিনহো ছাড়ার পরে সিজনে লীগে রানার্স আপ হয়। কিন্তু তার পর থেকে থেকে লীগে অবস্থান যথাক্রমে ৬ষ্ঠ, ৯ম, ৫ম, ৮ম, ৪র্থ। 
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া।

লিখেছেনঃ রাসেল আহমেদ।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন