কেমন চলছে মিনোসদের দল গোছানো?

কেমন চলছে মিনোসদের দল গোছানো?

আরেকটি ফুটবল মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় ফুটবল প্রেমিরা। কিন্তু ক্লাব গুলো এখন মহাব্যস্ত পছন্দের খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ানোর কাজে! সব মিলিয়ে ট্রান্সফার মার্কেটের উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। প্রিমিয়ার লীগের জায়ান্টরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে জায়ান্টদের স্টার, সুপারস্টারদের সাইনিং এর ডামাডোলে অনেকটাই চাপা পড়ে যায় মাঝারি ও ছোট ক্লাব গুলোর খবর, সেগুলোর দিকেই আজকে নজর দেওয়ার চেষ্টা করব!

জায়ান্টদের পরেই এবার সবচেয়ে বেশী সরব এভারটন। ইতিমধ্যেই তাদের খরচটা প্রায় ১০০ মিলিয়নের কোঠায় গিয়ে ঠেকেছে। বোঝাই যাচ্ছে সাফল্য পেতে মরিয়া ক্লাবটি। তারই অংশ হিসেবে ২৮ মিলিয়নে সান্ডারল্যান্ড থেকে তরুণ গোলকীপার জর্ডান পিকফরডকে দলে ভিড়িয়েছে সেই সাথে বার্নলি থেকে সেন্টারব্যক মাইকেল কেনকে পেতেও খরচ করতে হয়েছে ২৮ মিলিয়ন। আয়াক্সের হয়ে সফল একটি সিজন শেষ করা ডেভি ক্লাসেনও যোগ দিয়েছেন এভারটন শিবিরে তার জন্য খরচাটাও প্রায় একই, ২৭ মিলিয়ন। এছাড়াও ৬ মিলিয়নে মালাগার তরুন সেন্টার ফরোয়ার্ড স্যন্ড্রো র্যামিরেজকেও দলে ভিড়িয়েছে তারা। এবং তাদের ঘরের ছেলে ওয়েইন রুনিও ফিরেছেন তার প্রাক্তন ক্লাবে। মোটকথা বেশ আটঘাট বেধেই নেমেছেন রোনাল্ড কোম্যান।

এভারটনের তুলনায় এবার যেন বেশ নিষ্ক্রিয় টটেনহ্যাম। লোন থেকে ফেরা মেহেদি বেন্তলিব আর ফাযিও ছাড়া আর কাউকে দলে ভেড়ায়নি তারা তার উপর রয়েছে কাইল ওয়ালকার সিটিতে আর ড্যালে আলির দল ছাড়ার গুজব। সব মিলিয়ে ট্রান্সফার মার্কেটে তেমন সুবিধাজনক অবস্থায় নেই পচেত্তিনোর স্পার্স।

রুপকথা জন্ম দেওয়া লিস্টারও বেশ সরব। সেভিয়া থেকে ৩০ বছর বয়সী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ভিসেন্তে ইবোরাকে আনতে খরচ করতে হয়েছে ১৫ মিলিয়ন ইউরো। সেইসাথে হাল সিটি থেকে ১৩ মিলিয়নে সেন্টারব্যক হ্যারি মিগুয়েরও যোগ দিয়েছে ফক্স শিবিরে। রিউমার অনুযায়ী তরুণ সিটি স্ট্রাইকার কেলেচিও যোগ দিতে যাচ্ছে লিস্টারে।

সাউদাম্পটনের একমাত্র সাইনিং জ্যান বেডনার্ক, যার জন্য সেইন্টদের পোলিশ ক্লাব পোজনানকে দিতে হয়েছে ৬ মিলিয়ন! এছাড়া লোন শেষে সেইন্ট শিবিরে যোগ দিয়েছে আর্জেন্টাইন গোল্কীপার পাওলো গ্যাজানিগা।

সোয়ান্সি সিটির নতুন বস পল ক্লেমেন্টও ব্যাস্ত দল গোছাতে! লাস পালমাস থেকে ২৮ বছর বয়সী সেন্টার মিডফিল্ডার রোক মেসাকে দলে ভিডিয়েছে ১২ মিলিয়নের বিনিময়ে। লোন শেষে ফিরছে সেন্টার ফরোয়ার্ড গমিস! এছাড়াও এক সিজনের লোনে সোয়ান্স শিবিরে যোগ দিয়েছে সেন্টার ফরোয়ার্ড আব্রাহাম!

ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের একমাত্র সাইনিং ফ্রি এজেন্ট আর্জেন্টাইন সেন্টারব্যক পাবলো জাবালেতা!

৯ মিলিয়নে সোয়ান্সি থেকে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জ্যাক কর্ক এবং ২ মিলিয়নে স্টোক উইঙ্গার জোনাথন ওয়াল্টার্সকে দলে ভিড়িয়েছে বার্নলি।

ওয়ার্টফোর্ডও বেশ ব্যস্ত এই ট্রান্সফারে! ডার্বি থেকে তরুন মিডফিল্ডার উইল হিউজকে দলে ভেড়াতে ব্যয় হয়েছে ৯ মিলিয়ন। সেই একই পরিমাণ ট্রান্সফার ফীতে এভারটন থেকে ওয়াটফোর্ড শিবিরে টম ক্লেভার্লি। এছাড়াও প্রায় ৬ মিলিয়নে চেলসি থেকে ডিফেন্সিভ মিড নাথালিয়েনকেও দলে ভিড়িয়েছে তারা! আর ফ্রি ট্রান্সফারে এসেছে কিকো ফেমিনিয়া ও ড্যানিয়েল ব্যচম্যান।

রেলিগেশন থেকে আবারও প্রিমিয়ার লীগে ফিরেছে নিউক্যাসল ইউনাইটেড । এইবার থেকে ফোরলান লেজুনকে কিনতে তাদের গুনতে হয়েছে ১০ মিলিয়ন। এছাড়াও চেলসি উইঙ্গার আতসুকে দলে ভিড়িয়েছে সাড়ে সাত মিলিয়নে!

চেলসি থেকে লোনে সেন্টার মিড রুবেন লফটাস চীককে আনা ছাড়া আর কাউকে সাইন করাইনি ক্রিস্টাল প্যালেস। ওয়েস্টব্রমে ১৩ মিলিয়নে দলে ভিড়িয়েছে সেন্টার ফরোয়ার্ড জে রদ্রিগেজকে! এফসি বোর্নমাউথের জোড়া সাইনিং চেলসি সেন্টারব্যক আকে এবং গোলকীপার বেগোভিচ মোট খরচ ২৩ মিলিয়ন।

মোটকথা পছন্দের খেলোয়াড় পেতে মরিয়া সবাই এবং সেই দৌড়ে এরাও পিছিয়ে নেই। কার ট্রান্সফার স্ট্র্যাটেজি কতটা সফল তার উত্তর পাওয়া যাবে নতুন সিজনের বল মাঠে গড়ালেই।

 

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন