গ্রাস কোর্টের ইতিকথাঃ উইম্বল্ডনের এদিন ও সেদিন

গ্রাস কোর্টের ইতিকথাঃ উইম্বল্ডনের এদিন ও সেদিন

সময়টা তখন ১৮৬৮. "অল ইংল্যান্ড লন টেনিস এন্ড ক্রোকেট ক্লাব" বা " দি অল ইংল্যান্ড ক্রোকেট ক্লাব " নামে একটি ক্লাবের কেবল ই জন্ম হলো। ক্লাবটিকে দাঁড় করবার জন্য বেছে নেয়া হল নার্সারী রোড যেটি অবস্থিত আজকের এই উইম্বল্ডনে।

১৮৭৬সালের দিকে মেজর অয়াল্টার ক্লপ্টন উইংফিল্ডীর হঠাত করে একটি খেলার নীল নকশা এঁকে ফেললেন। গেমটার নাম দেয়া হলো "Sphairistikè"বা "স্ফাইরিক্টিকে"। ক্লাবটি স্বতস্ফুর্ততার সাথে খেলাটি গ্রহন করলো। ১৮৭৭ সালের বসন্তে  ক্লাবটি
"দি অল ইংল্যান্ড ক্রোকেট এন্ড লন টেনিস ক্লাব " নতুন নামে যাত্রা শুরু করে। এরই সাথে তারা  সর্বপ্রথম লন টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ এর পরোক্ষ সংকেত দিয়ে দিলেন। শুধু নেটের এবং পোস্টের উচ্চতা এবং সার্ভিস লাইনের নেট হতে দূরত্ব ছাড়া আজো এই চ্যাম্পিয়নশিপ  টুর্নামেন্টের সকল নিয়ম পূর্বের মতই বহাল আছে।

ধীরে ধীরে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপের আরম্ভের দিন এগিয়ে আসলো। ৯জুলাই,১৮৭৭ সালে বিশ্বের এই অন্যতম বড় আসরের সুভসুভনা ঘটে। তখন শুধুমাত্র "জেন্টালম্যান সিঙ্গেল" ইভেন্টটুকুই রাখা হয়েছিলো। প্রায় ২০০ জন দর্শকের সামনে হারোভিয়ান র‍্যাকেট প্লেয়ার স্পেন্সার গোর এই ম্যাচে জয় করে ইতিহাসের প্রথম উইম্বল্ডন বিজয়ী হিসেবে নাম লেখালেন।

১৮৮৪ সালে ক্লাবটি "লেডিস সিঙ্গেলস"এবং"জেন্টাল্ম্যান ডাবলস"ইভেন্ট যুক্ত করে। লেডিস ডাবলস এবং "মিক্সড ডাবলস" যোগ হয় ১৯১৩ সালে। কিন্ত অদ্ভুত এক নিয়ম ছিলো খেলার। শুধুমাত্র ফাইনালেই অধিপতি চ্যাম্পিয়ন তার দর্শন দেবেন যদি কেউ তাকে চ্যালেঞ্জ করে থাকে এবং তার সাথেই পরবর্তীতে ম্যাচ অনুস্থিত হবে। ১৯২২সালের পর থেকে এই নিয়মে পরিবর্তন আসে। নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে ক্লাবের কার্যক্রম চলতে থাকে। ১৯৮০ সালের দিকে ৪টি নতুন কোর্টের সাথে পরিচিত হয় টেনিস দর্শকেরা।

মজার বিষয়টি হল খেলাটি ব্রিটিশদের হলেও ১৯৩৬ এর আগে কোন ব্রিটিশই খেলায় জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি। ফ্রেড পেরি এসে শেষে ইংরেজদের মুখ রক্ষা করলেন। তারপর ও কেটে গেছে বিশাল সময়।২০১৩ সালে এন্ডি মারে ম্যাচ জিতে ব্রিটিশদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনেন। অপরদিকে মেয়েদের মধ্যে প্রথম ব্রিটিশ হিসেবে ভারজিনিয়া ওয়েড ১৯৭৭ সালে এই গৌরব অর্জন করেন।তার পথ ধরে এনাবেল্ক্রফট এবং লরা রবসন ১৯৮৪ এবং ২০০৮ সালে উইম্যান্স চ্যম্পিওয়নশিপে শিরোপা অর্জন করেন।

ছোট করে একটা তথ্য দিয়ে রাখি , সম্মানেই এই খেলা প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ  চলাকালীন ৪ বছর [১৯১৫-১৮] এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ  চলাকালীন সময়ে ৬ বছর বন্ধ ছিল ! [১৯৪০-৪৫]

এখন আসি একবিংশ শতাব্দীতে। এখন উইম্বল্ডনকে বিশ্বের প্রধান টেনিস ট্যুরনামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর সেই যে আদি ক্লাবটি! তাদের দায়িত্ব হল তাদের এই কতৃত্ব বজায় রাখা!নানা যল্পনা কল্পনার মধ্য দিয়ে এই চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট নিজেদের প্রাধান্য ঠিক ই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৯ সালে একটি কৃত্রিম ছাদ বা "রুফ" যুক্ত করা হয় যেন বৃষ্টি খেলার বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।

বর্তমানে উইম্বল্ডনে জেন্টাল ম্যান সিঙ্গেল,জেন্টাল ম্যান ডাবল,লেডিস সিঙ্গেল,লেডিস ডাবল,এবং মিক্সড ডাবলস এই সর্বমোট ৫ টি প্রধান ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও জুনিয়র ইভেন্টস এবং ইনভাইটেশন ইভেন্টস তো আছেই! প্রত্যেক বছর জুনের শেষ সোমবার থেকে এই  টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয় এবং মোট ১৪ দিনের খেলা শেষ হয় রবিবারে।

এখন পর্যন্ত পুরুষ এককে ব্রিটিশ টেনিস তারকা উইলিয়াম রেনশো, আমেরিকান পিট সাম্প্রাস এবং সুইস তারকা রজার ফেদেরার সর্বোচ্চ ৭ বার করে এই প্রতিযোগীতায় শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করেছেন। 

সারা বিশ্ব এখন উইম্বল্ডন জ্বরে ভুগছে। সবার একটাই প্রশ্ন জেন্টালম্যান সিংগেলের ট্রফি টা যাচ্ছে কার হাতে! একদিন ফেদেরোর তো অন্যদিকে মারে। একদিকে জোকোভিচ তো অন্যদিকে নাদাল! গত ৪ আসরের ৩ বারের ফাইনালিস্ট এবং ২ বারের চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচ যেন হন্য হয়ে ফিরছেন নিজের হারানো মুকুট ফিরিয়ে নেয়ার জন্য! ওদিকে ২০১১ সালে শেষ বারের মত ফাইনাল খেলা রাফায়েল নাদাল যেন আরেকবার নিজের সুদিন ফেরার অপেক্ষায় আছেন!

ব্রিটিশ তারকা অ্যান্ডি মারের লড়াইটা একেবারেই আলাদা ! লড়াইটা কেবলি নিজের সাথে। আঘাতের প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারলেই হয়তো দখলে রয়ে যাবে জয়মুকুটখানা! লেডিস সিঙ্গেলে এগিয়ে আছেন এঞ্জেলিক কেরবার।পিছিয়ে নেই এলিনা ভিটোলিনাও। 

তো দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কে পরবে জয়ের মুকুট!অপেক্ষা রইলো সবুজ কোর্টের আরেকটি নতুন অধ্যায় কিংবা কোনো পু্রোনো যোদ্ধার নতুন করে সিংহাসন দখলের দৃশ্য দেখার!

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন