ট্রান্সফার মার্কেটে জুভেন্টাস

ট্রান্সফার মার্কেটে জুভেন্টাস

জুভেন্টাস ট্রান্সফার মার্কেটে বেশ কিছু ডিল করেছে বা করতে চাচ্ছে যাতে অনেকেই অবাক বা বিরক্ত হচ্ছে। কিন্তু কথা হচ্ছে আর্থিক ও পারফরম্যান্সের দিক থেকে তারা এখন যে অবস্থায় আছে তাতে এসব বিচিত্র কিছু নয়। যদি লীগে পারফরম্যান্সের কথা চিন্তা করেন তাহলে সিরি অ্যা তে তারা মনোপলি চালাচ্ছে। আর ট্রান্সফার মার্কেটে তাদের মুভমেন্ট বেশ কৌশলী। খেয়াল করে দেখবেন স্বল্পমেয়াদী, দীর্ঘমেয়াদী সব ধরণের ট্রান্সফারই তারা করে থাকে। জুভেন্টাসের আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে এসব স্ট্র্যাটেজির ভূমিকা কম নয়।

গত কয়েক বছরে তেভেজ, পিরলো, ভিদাল এর মত গ্রেট প্লেয়াররা জুভেন্টাসে খেলে গেছে। কিন্তু সাফল্যের মূল তারাই ছিলেন না। চিরাচরিত ইতালিয়ান ডিফেন্স জুভেন্টাসকে অদম্য করে তুলেছিল, সেই সাথে ছিল কন্তের ট্যাকটিক্স। ২০০৬ এ ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারীতে রেলিগেটেড হবার পর জুভেন্টাসের উঠে আসতে অনেক সময় লেগেছে। অনেক বড় স্টার চলে গেলেও থেকে গিয়েছিলেন বুফন, দেল পিয়েরো, নেদভেদ, ত্রেজেগের মত স্টাররা। তাদের সাথে কিছু সময়োপযোগী ট্রান্সফার ধীরে ধীরে এখনকার ভিত্তি তৈরি করেছিল। আজকের জুভেন্টাস ডিফেন্সের স্তম্ভ কিয়েলিনি আছে ২০০৫ থেকে, বনুচ্চি ২০১০, বারজাগলি ২০১১ থেকে; মারকিসিও আছে ২০০৮ থেকে। ২০১১-১২ তে সিরি অ্যা শিরোপা জেতাটা ছিল জুভেন্টাসের সবচেয়ে বড় টারনিং পয়েন্ট। ২০১০-১১ এর দিকেও এসি মিলান, ইন্টার মিলানের অসাধারণ স্কোয়াড ছিল। কিন্তু প্লেয়ার বিক্রি করে ও তার থেকে বুদ্ধিদীপ্ত দীর্ঘমেয়াদী প্ল্যানের অভাবেই মূলত পিছিয়ে পরেছিল তারা। এই দিক দিয়ে দারুণভাবে সফল জুভেন্টাস।

 

অনেক দিনের কাঙ্ক্ষিত লীগ জিতার পর বেশ ভাল অবস্থানে আসে জুভেন্টাস। সেই সময় ক্লাব ফুটবলে ট্রান্সফার মানির জোয়ার বইছিল। কিন্তু ইতালিয়ান আর্থিক দুরাবস্থার কারণেই হোক, আর অন্য কোন কারণেই হোক, জুভেন্টাস একটু অন্য রকম পথ অবলম্বন করে। অন্যান্য লীগের ফ্রী এজেন্টদের রিক্রুট করা শুরু করে। নিজ নিজ ক্লাবে ব্রাত্য এসব ফ্রী এজেন্ট জুভেন্টাসে এসে নতুন করে জ্বলে উঠে। সেই সাথে অন্য ক্লাবগুলোর তরুণ ও কম প্রয়োজনীয় প্লেয়ারদের লোনে আনা শুরু করে। ২০০৯ এর পর থেকে লুকা টনি, পিরলো, আনেলকা, লুসিও, লরেন্তে, খেদিরা, কোমান, নেটো, দানি আলভেস এতগুলো ইফেক্টিভ প্লেয়ার ফ্রী ট্রান্সফারে আনে জুভেন্টাস। এর মধ্যে কেউ হয়তো প্রাইমে ছিল না, কিন্তু একটু বয়স্কদের অভিজ্ঞতা ছিল, তরুণদের সম্ভাবনা ছিল। পিরলো কতটা ইফেক্টিভ ছিল তা সবাই দেখেছে, অথচ এই পিরলোকেই কিনা এসি মিলান ফ্রীতে ছেড়ে দিয়েছিল! পগবা কতটা বিকশিত হয়েছে তা সবাই দেখেছে, কোমান হয়তো তেমন সুযোগ পায়নি, কিন্তু কতটা ভাল তা সবাই বুঝছে। লরেন্তে, টনি একেবারে খারাপ করেনি, খেদিরা মোটামুটি ভালোই খেলছে, গোলকিপার নেটো যেকোন সিরি অ্যা দলের স্টার্টার হবার যোগ্যতা রাখে। এছাড়া লোনে বিভিন্ন সময় কুয়াদ্রাদো, রবারতো পেরেইরা, ক্যাসারেস, মাত্রিদের মত প্লেয়ারদের বিভিন্ন সময়ে লোনে নিয়ে আসে, সাথে বাই ব্যাক ক্লজে মোরাতা।

শুধু স্বল্পমেয়াদী নয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাতে জুভেন্টাস এরপর যেতে থাকে সফলতা পাবার সাথে সাথেই। লাস্ট কয়েক বছরে তাদের ডিলগুলো দেখুন। তাদের একটা সুবিধা ছিল- ইতালিয়ান লিগে এমনিতেই লাইমলাইট একটু কম, তাই প্লেয়ার ধরে রাখতে তেমন অসুবিধা হয়নি। আর ইতালিতে এখন জুভেন্টাস এখন যে অবস্থায় আছে, তাতে ২-১টা বড় স্টার চলে গেলেও কিছু আসে যায় না। তাই তাদের কাছ থেকে প্লেয়ার কেনা সহজ ছিল না, এখনো সহজ হবেনা। তারা পগবাকে না বেচলে কিছুই হত না, এখন দিবালাকে না বেচলেও সমস্যা নেই। সোজা কথায় তারা টাকার জন্য পাগল নয়, সেলিং ক্লাব নয়। তাই তারা প্লেয়ার ছাড়লে সর্বাধিক মূল্য নিয়েই ছাড়বে। আর সেইসাথে এখন তারা ইতালিয়ান লীগের অন্য দলগুলোর সেরা প্লেয়ারদের দলে ভেড়ানো শুরু করেছে। হিগুইয়ান, পিয়ানিক, দিবালা, হারনানেস – এদের সবাইকে সিরি অ্যা ক্লাবগুলো থেকেই কিনে জুভেন্টাস এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ দলের কী প্লেয়ার ছিল। জুভেন্টাসে এত গ্রেট প্লেয়ারদের ফ্রী এজেন্ট হিসেবে আসার কারণ ছিল ইতিহাস, ঐতিহ্য। আর এর সাথে যখন সাম্প্রতিক সাফল্য যোগ হয়েছে তখন ট্যালেন্টেড তরুণ ও প্রাইম টাইমের প্লেয়াররাও আসছে। কন্তের হাত ধরে তাই যে সাফল্য শুরু হয়েছিল, তা আরও কয়েক বছর বজায় থাকবে। জুভেন্টাসের পরবর্তী লক্ষ্য ইউরোপ, সেদিকে ভালোভাবেই আগাচ্ছে। এইসব ট্রান্সফার ডিল ও ম্যানেজমেন্ট স্কিলেই জিউসেপ্পে মারোত্তা ও পাভেল নেদভেদ টেক্কা দিয়েছে সমসাময়িক ইতালিয়ান ক্লাবগুলোকে, বাকি টপ ইতালিয়ান ক্লাবগুলোর দিকে তাকালেই তা প্রতীয়মান হয়।

নতুন আর্টিক্যাল পাবলিশড হওয়া মাত্রই পড়তে চান?

আজই সাবস্ক্রিপশন করে নিন